শেষের পথে মেয়াদ: ডিএসসিসির ৭ প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১২:৪৩, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৫, জানুয়ারি ০৮, ২০১৯



ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কাজ চলছেঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হতে চললেও মাত্র ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে আর বাকি সাড়ে ৫ মাস। সেগুলোর এখনও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। আর দুটি প্রকল্পের কাজ এখনও শুরুই করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটির চলমান প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওতাধীন নবসংযুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল এবং সারুলিয়া এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; মাতুয়াইল সেনেটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাধীন নবসংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প।

এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ ও একটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও বাকি প্রকল্পগুলো ২০১৬-১৯ অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

তবে সংস্থাটির এক জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে এসব কাজের মাত্র ৫৬ দশমিক ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দুটি প্রকল্পের কাজ শুরুই করতে পারেনি ডিএসসিসি। ডিএসসিসির এ সাতটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৩৮১ কোটি ২৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ থেকে সরকার দিচ্ছে চার হাজার ১৬ কোটি ২৭ লাখ ৯৮ হাজর টাকা। বাকি ৩৬৪ কোটি ৯৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দিয়েছে ডিএসসিসি। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৪৪ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে।

চলছে উন্নয়ন কাজপ্রকল্পগুলোর মধ্যে এক হাজার ২১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের আওতায় ১৩১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার রাস্তা, ২৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৩০ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ড্রেন, শান্তিনগর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে ৯ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, ১১ দশমিক ৪০২ কিলোমিটার ফুটপাত, ১১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ৩৮ হাজার ৯৮টি এলইডি বাতি স্থাপন, নতুন ৭ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ১৬টি সংস্কার, বাস বে, বাস স্টপেজ, বাম লেন, গার্ড রেল, গ্রিল ফেন্সিং, সড়ক দ্বীপ বিউটিফিকেশন, ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ উন্নয়ন, ৪৭টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১৭টির সংস্কার, ১৬টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন, দুটি আধুনিক জবাই খানা, তিনটি কবরস্থান উন্নয়ন, একটি শিশুপার্ক নির্মাণ, দুটি হাসপাতাল সংস্কার ও ১১টি ক্লিনার কলোনি নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

২০১৬-১৯ সালের মধ্যেই এসব প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও গত তিন বছরে প্রকল্পের মাত্র ৬৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এছাড়া ৭৭৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওতাধীন নবসংযুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল এবং সারুলিয়া এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৫২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রাস্তা, ১৫৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নর্দমা, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ফুটপাত, ৭ হাজার ৬৩টি বৃক্ষ রোপণ ও ১৪৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার এলইডি লাইট স্থাপন করার কথা রয়েছে।

রাজধানীর উন্নয়ন কাজ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও বর্তমানে প্রকল্পের মাত্র ৭৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

১০৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৭ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, ৬১ দশমিক ১০ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়ন ও ৮ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন করা হবে। এই প্রকল্পের মেয়াদকালও ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের আর মাত্র সাড়ে ৫ মাস বাকি থাকলেও এখনও ২৮ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

৭২৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাতুয়াইল সেনেটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান ল্যান্ডফিলের পার্শ্ববর্তী ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও বর্তমানে প্রকল্পের মাত্র ৬৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

পার্কের উন্নয়ন কাজ৫১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাধীন নবসংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা, ৭ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ১২টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ৬১ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও ১১৬ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

২৬৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার ও দুইটি সংস্কার করা হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু করতে পারেনি সংস্থাটি।

৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৪৩ দশমিক ৪২ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন, ৫৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ২৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন, ৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার মিডিয়ান নির্মাণ, ১৬৯ দশমকি ১০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ এবং ৮৮ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার নর্দমনা উন্নয়ন করা হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পেরও কাজ শুরু করা যায়নি।

সড়কের উন্নয়নতবে প্রকল্প পরিচালক ও দক্ষিণ সিটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ডিএসসিসির রাস্তাঘাটের চেহারা বদলে যাবে। নাগরিকরা আরামে চলাফেরা করতে পারবেন। সার্বিক বিষয়ে একই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আশা করছি প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প নেওয়ার কোনও সুফল পাওয়া যাবে না। সিটি করপোরেশনের উচিৎ হবে কোনও প্রকল্প নেওয়ার আগে স্থানীয় অধিবাসী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে সেগুলো অনুমোদন করা। স্থানীয়রাই সমাধান দিবে তার সড়ক, ফুটপাত বা পার্কটি কেমন হবে। তাই যে কোনও উন্নয়ন কাজ এলাকাবাসী ও পেশাজীবীদের নিয়ে কমপক্ষে একটি গণশুনানি হওয়া উচিৎ। শুধু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কোনও সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব নয়। টাকা অপচয় হবে।’

তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প স্থানীয়দের সমন্বয়ে করা হয়েছে সেগুলোর সুফল জনগণ পেয়েছে এবং পাবে। উন্নয়ন কাজগুলো জনগণের সমন্বয়ে হলে এর সুফল পাবে জনগণ।

/এসএস/টিটি/

লাইভ

টপ