‘ভোট নিয়ে যেখানে প্রশ্ন নেই সেখানে সংলাপের দাবি অযৌক্তিক’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:২৭, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছে ওবায়দুল কাদেরনির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি একেবারেই হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেখানে ভোট নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, বিতর্ক নেই, গণতান্ত্রিক বিশ্ব উল্টো সমর্থন দিয়েছে, সেখানে এ ধরনের সংলাপের কোনও যৌক্তিকতা কিংবা বাস্তবতা বা প্রয়োজনীয়তা এ মুহূর্তে নেই। নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি একেবারেই হাস্যকর। আমি বলবো মামা বাড়ির আবদার, এছাড়া আর কিছু নয়।’

বাম রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবারই প্রথম সরকার গঠনের আগে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন এবং শুভেচ্ছা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পেয়েছেন। উন্নত দেশগুলো সরকার গঠনের আগেই কিন্তু অভিনন্দন জানিয়েছে। কাজেই এ ধরনের দাবি অবান্তর, কোনও যৌক্তিকতা নেই। নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে কোনও প্রকার বিতর্ক নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে কোনও প্রশ্ন আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি, কাজেই নির্বাচন নিয়ে যারা আজকে অভিযোগ তোলেন তারা নির্বাচনে হেরে গেছেন বলেই হেরে যাওয়ার বেদনা থেকেই এসব প্রশ্ন, এসব অভিযোগ তুলছেন এবং তাদের এই অভিযোগ ধোপে টেকে না। এটার কোনও বাস্তবতা নেই। দেশে-বিদেশে এর কোনও স্বীকৃতি নেই,জনগণ খুব খুশি। চারিদিকে আপনারা জনগণের মতামত নিতে পারেন, জনগণ এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। জনগণের কোনও প্রশ্ন নেই, প্রশ্ন আছে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের। তাদের কাছে প্রশ্ন থাকবেই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে হলে গরম কথা বলতে হবে।’

বিআরটিএর অভিযান প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘মাঝখানে নির্বাচন থাকায় বিআরটিএর অভিযান স্থগিত ছিল। যে কারণে অনিয়ম বেড়ে গেছে। আজকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা ৮টি গাড়ির জব্দ এবং তিন জনের জেল ও ৪২ টি মামলা করা হয়েছে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে। বিআরটিএকে এই অভিযান আরো জোরদার করতে বলা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বেড়েছে,  ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট যুক্ত হয়েছে। যার কারণে আমরা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক রাতে তো আর পরিবর্তন হবে না। সামগ্রিকভাবে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। আইনকানুন মানার সময় যে অবস্থা সৃষ্টি হয়, রাস্তায় চলন্ত গাড়ির সামনে দৌড়াদৌড়ি। এরকম শুধু যান চলাচলে না, রাস্তা পারাপারের ট্রাফিক আইন কানুন কিছুই কেউ মানতে চায় না। আমাদের পাবলিক রাস্তায় বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো মাঝেমধ্যে বেপরোয়া হয়ে যায়। রাস্তায় চলাচলের সময় এপার থেকে ওপারে যায় এবং এক্সিডেন্ট করে। শুধু যে চালকের জন্য এক্সিডেন্ট হয় তা নয়, যাত্রীর জন্য এক্সিডেন্ট হয়, পথচারীর জন্য এক্সিডেন্ট হয়। কাজে এসব বিষয়গুলো সাংবাদিকদেরও ক্যাম্পেইনে আনা উচিত। সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, তা না হলে আমরা রাস্তায় অনিয়ম বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারবো না। এই সচেতনতা গড়ে তুলতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

দলের সম্মেলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাউন্সিল আগে কীভাবে হবে? কাউন্সিল অক্টোবর মাসেই হবে।’

/এসও/এসটি/

লাইভ

টপ