২০১৮ সালে দেশে ১৯ হাজার ৫শ’ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে: ফায়ার সার্ভিস

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৫:১২, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

single pic template-1-Recoveredফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯ হাজার ৬শ’ ৪২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩০ জন নিহত ও ৬৬৪ জন আহত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩শ’ ৮৬ কোটি টাকা। বিগত পাঁচ বছরে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইলেক্ট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মোতাহার হোসেন খান বলেন, ‘রাজধানী, বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে আগুনে পুড়ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অফিসসহ অন্যান্য স্থাপনা। সচেতনতা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণসহ নির্বাপনের সরঞ্জাম রাখলে আগুনের ভয়াল থাবা থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের চাপে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার বেশির ভাগেই অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক ভবন ও প্রতিষ্ঠান এখনও পিছিয়ে আছে। ১০ বছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, কেবল রাজধানীতে এই সময়ে উচ্চ ভবনের হার বেড়েছে ৫১৪ শতাংশ। এসব ভবনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কতটুকু জোরদার করা গেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিদ্যমানসহ নির্মিত সকল উচ্চ ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সম্পদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলেই আমরা মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিট্যাল বাংলাদেশে ডিজিট্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি আইনের আওতায় আনা গেছে অপরাধীদের। বর্তমান সময়ে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। যার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতির গাড়ি। সেফটি ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কে নজরদারি বাড়ানো ও পরিবহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যা এখন সময়ের দাবি বলে আমরা মনে করি।’

অগ্নি নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও এগিয়ে এসেছেন। এ খাতের ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন ইসাব। যা ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর ষষ্ঠ বারের মতো তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০১৯-এর আয়োজন করা হয়েছে। যা আগামী ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি-২০১৯,  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, তাইওয়ান, তুরস্ক, চীন, ভারতসহ ২৬টি দেশের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির খ্যাতিমান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রদর্শিত হবে। এক্সপোতে মোট স্টল থাকছে ৭০টি। মেলার কো-পার্টনার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, অ্যাসোসিয়েট পার্টনার বিটিএমএ, কল-কারখানা অধিদফতর ও এনএফপিএ (ইউএসএ)। সাপোর্ট পার্টনার র‌্যাব ফোর্সেস।

মেলার উদ্বোধন করবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন– র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। 

ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থার বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়ার আদর্শ স্থান হয়ে উঠবে এবারের এক্সপো। জনসাধারণ এই মেলা থেকে জানতে পারবেন আন্তর্জাতিক বিশ্বে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি খাতের উদ্ভাবিত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পণ্যের বিষয়ে। এছাড়া এসব ব্যবহারের জ্ঞান অর্জন ছাড়াও মেলা থেকে অগ্নি-নির্বাপন ও সিকিউরিটি পণ্যের স্থাপন বিষয়ে ধারণা পাবেন এক্সপো থেকে। মেলায় অগ্নি-নির্বাপনের মহড়া থাকবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। এছাড়া এবারের এক্সপোতে চারটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের এক্সপো সামনে রেখে তারুণ্যের সৃজনশীল মেধা ও বিজ্ঞান মনকে কাজে লাগাতে ইসাবের পক্ষ থেকে ‘আবিষ্কারের খোঁজে’ নামে একটি ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্যাম্পেইনে ফায়ার সেফটি, সিকিউরিটি, রেস্কিউসহ এ খাতসংশ্লিষ্ট ৭০টি প্রজেক্ট জমা পড়েছে। এর মধ্য থেকে অভিজ্ঞ বিচারিক প্যানেলের মাধ্যমে নির্বাচিত দশটি প্রজেক্ট এক্সপোতে প্রদর্শন করা হবে। আর সেরা তিনটি প্রজেক্টকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কৃত করা হবে এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান।

 

/এআরআর/এমএএ/

লাইভ

টপ