ইউএনওকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওএসডির ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ, তদন্ত দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩১, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বীণা। (ছবিটি তার ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বেগম বীণাকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করার ঘটনা তদন্তের দাবি উঠেছে সংসদে। সোমবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবং সাবেক মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ এ দাবি করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন বলে সংসদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া আশা প্রকাশ করেন।

সোমবার বৈঠকে ৭১ বিধির নোটিশ নিষ্পত্তির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওএসডির করার প্রেক্ষাপট হিসেবে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ।

একজন নারী সন্তান সম্ভাব্য হলে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করতে হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, একজন ইউএনও অত্যন্ত বেদনাবিধুর স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি ৯ বছর পর মা হতে যাচ্ছিলেন। নির্বাচনের সময় তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বে কোনও গাফিলতি ছিল না। এপ্রিল মাসে তার সন্তান জন্মগ্রহণের কথা ছিল। তিনি যখন ডাক্তারের কাছে গেলেন তখন জানতে পারলেন ওএসডি হয়েছেন। এই খবরটি শুনে মানসিকচাপে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি সন্তান প্রসব করেন। সময়ের আগে সন্তানটি প্রসব করার কারণে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ৯ বছর পর মা হওয়া এই নারীর  মানসিক অবস্থা কী তা আমরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছি। 

মেহের আফরোজের প্রশ্ন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে থাকেন তাহলে সন্তান সম্ভবা অবস্থায় কেন তাকে ওএসডি করা হলো? এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সমাজ এখনও সেই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে না। এই সময় এমন আচরণ করা উচিত নয় যা সন্তান বা মায়ের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সন্তান সুস্থভাবে জন্ম না নিলে তা কেবল মা বা তার পরিবার নয়, দেশের জন্য বোঝা হয়ে যেতে পারে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্ত করার দাবি জানান।

পরে শামীম ওসমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমি ওমরা হজে থাকার সময় এই ঘটনার কথা জানতে পারি। আমার পরম আত্মীয়ের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটলে যতটা দুঃখ পেতাম এই ঘটনায় সেই রকম দুঃখ পেয়েছি। ঘটনায় আমি লজ্জিত হয়েছি। তিনি আমার নির্বাচনি এলাকা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার। তিনি সৎ কর্মঠ ও অত্যন্ত ভালো সরকারি কর্মকর্তা।

কার নির্দেশে ওই কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, প্রশ্ন রেখে শামীম ওসমান বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে খারাপ কিছু হলে আমি নিজেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মনে করি জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে কোনও দিকনির্দেশনা থাকলে তা দিতে পারেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন বলে সংসদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া আশা প্রকাশ করেন।

/ইএইচএস/টিএন/

লাইভ

টপ