প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জার্মানি সফরে দুই প্রাপ্তির প্রত্যাশা

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ২৩:৩০, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪১, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯





শেখ হাসিনা ও অ্যাঙ্গেলা মেরকেল (ছবি: রয়টার্স)আসন্ন জার্মানি সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ তৈরি করে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরতে পারবেন। অন্যদিকে, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অবকাশ পাবেন। এ ছাড়া বাড়তি পাওনা হিসেবে কমবেশি ৩০ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটবে শেখ হাসিনার।
আগামী ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দিতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানি যাচ্ছেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটিই হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রধানমন্ত্রী জার্মানিকে তার এই মেয়াদের প্রথম সফর হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন।’

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ

সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে সাহস দেখিয়েছে এবং মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, অনেক ধনী দেশও সেই সাহস দেখাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এটি (মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন) একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম যেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশকে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ।’
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে মেরকেলের বৈঠক হবে এবং সেখানে তারা রোহিঙ্গা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয় আলোচনা করতে পারবেন।’
বাংলাদেশ যেমন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে তেমনি জার্মানিও লাখ লাখ সিরীয়সহ অন্যান্য দেশের শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। 

সরকারের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জার্মানির মতো বড় অর্থনীতি নই এবং বেশি দিন রোহিঙ্গাদের বোঝা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।’




আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেরকেল একটি বড় কণ্ঠস্বর এবং তিনি যদি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন, তবে এটি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং এই সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন

দুই বছর আগে ৫৩তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছিলেন। এবার ঢাকা ফিরতি সফর আশা করে।


সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘গতবার মার্কেল বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে আসবেন। কিন্তু তার দেশের তথা অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের কারণে তিনি আসতে পারেননি।’
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কেন্দ্র এবং সেখানে জার্মানি হচ্ছে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং সবচেয়ে প্রভাবশালীও বটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা চাই, তিনি (মেরকেল) বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা যা করেছি, তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করুক।’




জার্মানির বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সরকারের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘সব মিলিয়ে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলার এবং এই অর্থ বিনিয়োগ করে তারা তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই সফরে একটি ইতিবাচক ফল আশা করছি এবং সবকিছু ঠিক থাকলে এই বিষয়ে একটি চুক্তি সই হতে পারে।’


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার জার্মানি এবং ঢাকা দেশিটিতে জিএসপির অধীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের অব্যাহত সুযোগ চায়।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এখন আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে জিএসপি+ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বড় সদস্য হচ্ছে জার্মানি এবং এক্ষেত্রে তারা আমাদের সহায়তা করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই কর্মকর্তা জানান, এক্ষেত্রে শ্রম অধিকার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছে।







/এইচআই/

লাইভ

টপ