বাংলা ট্রিবিউনকে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ‘ডিএনডি বাঁধকে হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তুলতে চাই’

Send
মাহবুব হাসান
প্রকাশিত : ১০:৩৯, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা (ডিএনডি) বাঁধকে হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তুলতে কাজ করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। কাজ শেষ হলে রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ২২ লাখ মানুষ যেমন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জন্য এটি হয়ে উঠবে অন্যতম একটি বিনোদন স্পট।’ ডিএনডি বাঁধ প্রসঙ্গে বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এভাবেই বলেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি শুরু করে এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনকি সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সরাসরি ভোটে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি থেকে সভাপতির দায়িত্ব পান। ছাত্র রাজনীতির পাট চুকিয়ে একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের  নির্বাহী সদস্য হিসেবে স্থান করে নেন। একাধিকবার এই পদে থেকে বর্তমানে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) হয়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন। বুধবার বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই সাবেক ছাত্রনেতা। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন রাজনীতি এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে।পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

গঙ্গা পানি চুক্তি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গঙ্গা পানি চুক্তির মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার তৎপরতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকেরও এতে ভূমিকা আছে।’  একইভাবে তিনি তিস্তার পানি ইস্যুতে  কাজ করে যাবেন বলেও জানান।

নিজ মন্ত্রণালয়ে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শামীম আরও জানান, দায়িত্ব নিয়েই মন্ত্রণালয়কে গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে একটু আলাদা। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চেয়ে মানবিক কর্মকাণ্ডই এখানকার মূল কাজ। এই মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ নদী ভাঙ্গন রোধ করা, জলাবদ্ধতা থেকে মানুষকে রক্ষা করা, বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করা। পাশপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব দেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী আছে, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করা।’

আওয়ামী লীগের তরুণ এই নেতা আরও বলেন, ‘আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নদী ভাঙন  কবলিত এলাকার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আগাম অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা রোধে কাজ করা এবং জলাবদ্ধতার সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।’পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

ভাঙন কবলিত এলাকার প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শরীয়তপুরের নড়িয়া, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারসহ এক মাসে সাতটি নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছি। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, সিলেটের হাওর অঞ্চলসহ অন্যান্য জায়গায় যাবো।’ নদী ভাঙনের শিকার সব পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি এসব সমস্যার সমাধান করতে চান বলেও জানিয়েছেন।

দখল হয়ে যাওয়া নদী উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এনামুল হক শামীম বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালযের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। শুধু দখলমুক্ত নয়, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা হবে।’

নদী রক্ষায় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন,  ‘পলিথিনসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা নদীতে না ফেলা ও মানুষের পানি দূষিত না করার উদ্যোগই নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।’

আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই তরুণ নেতা  জানান, প্রধানমন্ত্রী যে বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করবেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।  

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ