সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৩, মার্চ ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৫, মার্চ ০৫, ২০১৯

 

ওবায়দুল কাদেরসংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এছাড়াও ভারত থেকে আসা কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক দেবী শেঠি জানিয়েছেন, বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরা রোগীকে যে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এ পরিস্থিতিতে সেটিই ছিল যথার্থ। ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দেবী শেঠি লোকজনের ভিড় এড়াতে ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসার জন্য একটি ‘বেটার প্লেস’ নির্ধারণ বা তাকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। এরপরই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত রবিবার রাত সাড়ে তিনটায় নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান তাকে তত্ত্বাবধান করেন। এ সময় তার চিকিৎসায় ১৯ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয় এবং তাকে একটি রিং পরানো হয়। রবিবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকসহ একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসা হয়। তবে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সে রাতে তাকে পাঠানো হয়নি। এরপর সোমবার দুপুরে আসেন ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. দেবী শেঠি।

কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠির বরাত দিয়ে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, রোগীর সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে ডা. দেবী শেঠি বলেছেন, ‘হোয়াটএভার ডান হিয়ার বাই ইয়োর কার্ডিয়াক টিম, ইট ইজ অ্যান এক্সেলেন্ট জব দে হ্যাভ ডান।’

ডা. বড়ুয়া দেবী শেঠিকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘তিনি বলেছেন, চিকিৎসকরা যে স্টেপ নিয়েছেন, এতক্ষণ পর্যন্ত উনাকে যে এই অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন, ইউরোপ আমেরিকাতেও এরচেয়ে বেশি কিছু করার নেই।’’

শেঠি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশনের ওপর নির্ভর করবে এর লংজিভিটি। তাকে (ওবায়দুল কাদের) ব্লাডপ্রেসার কন্ট্রোল করার জন্য, স্টেন্টিং করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পরে আসবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে একটা অনুরোধ করা হয় দেবী শেঠিকে আনার জন্য। তিনি নিজে একটা চার্টার্ড ফ্লাইটে আসেন। দেবী শেঠি এসে ওবায়দুল কাদেরের এনজিওগ্রামসহ সমস্ত কাগজপত্র দেখেছেন। উনি বলেছেন, এখন যদি আপনাদের কোনোরকম চিন্তাভাবনা থাকে যে উনাকে বাইরে নিয়ে যাবেন তাহলে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্ডিয়াতেও আমরা এরকম করি। বিভিন্ন দিক থেকে পলিটিশিয়ানদের প্রেসারে থাকি। আপনারা চিকিৎসা করতে পারবেন এমন একটা বেটার প্লেস বলেন বা অন্য দেশে পাঠিয়ে দেন।’’
শেঠি বলেছেন, ‘উনার (ওবায়দুল কাদের) রক্তে ইনফেকশনের ব্যাপার আছে। যেটার কাউন্ট গতকাল ১৮ হাজার ছিল সেটা আজ ২৬ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে ইনফেকশন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।’

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, ‘‘শেঠি আরও বলেছেন, ‘আপনাদের এখানে ভিজিটর কন্ট্রোল করা সমস্যা। যদিও আপনারা চেষ্টা করছেন। ইভেন মেডিক্যাল পার্সনরাও আসে। সো দিস ইজ দ্য অপটিমাম টাইম টু শিফট হিম অ্যাবরোড। এরচেয়ে পরে যদি জটিলতা বৃদ্ধি পায় তখন শিফট করাটা রিলেটিভলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে।’ তখন আমরা বললাম যে গতকাল এই অবস্থা ছিল, তাই পাঠাইনি। তখন উনি বলেছেন, ‘ইওর ডিসিশন ইজ পারফেক্ট। এখন যদি বিদেশে নিতে চান, তাহলে আজকের দিনে উনাকে শিফ্ট করা সম্ভব হবে।’’
কনক কান্তি বলেন, ‘এরপরই সেতুমন্ত্রীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু দেবী শেঠিকে ডাকা হয়েছে তাই সিঙ্গাপুরের অ্যাম্বুলেন্সকে রেখে দিয়েছিলাম।’
তিনি জানান, ‘গতকালের চেয়ে উনার আজ উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত নন। সিঙ্গাপুরের দল বলেছে, গতকালকে যে ঝুঁকি ছিল আজকে ঝুঁকি তারচেয়ে কম। তবে ঝুঁকি নাই এ কথা বলা যাবে না। উনি বলেছেন, উনাকে আজ শিফট করা যাবে। তার প্যারামিটার গতকালকের চেয়ে আজকে অনেক ভালো। আমাদের কনফিডেন্স অনেক বেড়ে গেছে। আমরা দেশবাসীকে উত্তরোত্তর ভালো সেবা দিতে পারবো।’

ডা. বড়ুয়া এ সময় তার কার্ডিয়াক বিভাগকে ধন্যবাদ দেন।

এদিকে, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরকে প্রথমে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি যে ট্রিটমেন্টটা করেছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একটা অসাধারণ কাজ তারা করেছে। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কাজ করেছে। ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এই যে চিকিৎসকরা সেটেল করলেন, এটা তাদের কৃতিত্ব।’
তিনি বলেন,‘ আর একটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের এখানে উনার মতো এত বড়মাপের একজন মানুষকে চিকিৎসা করতে গিয়ে কীভাবে মানুষের ঢল নেমেছে হাসপাতালে। এতে অন্য রোগীদের চিকিৎসা খুব ব্যাহত হচ্ছিল। মূলত এই দুটি কারণেই বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে দেখানো হয়েছে। তবে, আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হচ্ছে। তরুণ চিকিৎসকরা এর অনেক প্রমাণ দিচ্ছেন। যেটা বঙ্গবন্ধুর (বিএসএমএমইউ) কার্ডিয়াক বিভাগ করলো, দেবী শেঠির মতো একজন বিশ্বমানের চিকিৎসকও আজ প্রশংসাই করে গেলেন।’
বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেবী শেঠি একজন কার্ডিয়াক সার্জন। তিনি এসে দেখবেন এই রোগীর সার্জারি করা যাবে কিনা। আমরা বিদেশি কলিগদের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলি। এটা তারই অংশ।
ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রাত পৌনে আটটায় সিঙ্গাপুরের সেলেটর বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল ডক্টর ফিলিপ কোহর তত্ত্বাবধানে ভর্তি হয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী গেছেন।

আরও পড়ুন...
সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন ওবায়দুল কাদের

/টিওয়াই/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ