জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপস নেই: সংসদে সুলতান মনসুর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩০, মার্চ ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৭, মার্চ ০৭, ২০১৯

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (ছবি- সংগৃহীত)সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বিগত ১৮ বছর রাজনৈতিক কারাগারে ছিলেন বলে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্তব্য করেছেন। সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমার আজকে ওইখানে থাকার কথা ছিল। ওই জোটের (সরকারি দলের জোট) পক্ষেই তো আমি রাজনীতি করতাম। আজ থেকে ১৮ বছর আগে এই সংসদে আসার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রাজনীতির ছন্দপতনে আমি গত ১৮ বছর রাজনৈতিক কারাগারের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনও আপস নেই।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতিতে তার ছন্দপতন হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদে ৯৯ শতাংশ হচ্ছে একজোটে, আর আমি অন্য জোট থেকে রাজনীতি করছি। কিন্তু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনও আপস নেই। বাংলাদেশ-জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু এক নামে পরিচিত।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে মনসুর বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। আজ থেকে ৫২ বছর আগে ১৯৬৭-৬৮ সালে স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় যে বিশ্বাস নিয়ে ও যার নামে স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম, সেই বিশ্বাস থেকে ব্যক্তিগতভাবে বিচ্যুত হইনি।’

তিনি বলেন, ‘জোটগতভাবে বা রাজনৈতিকভাবে বা আমার আজকের অবস্থানে হয়তো আমাদের নেতারা (আওয়ামী লীগের) ওই জোটে নেই, কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাসের জায়গা থেকে ৫২ বছর আগে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থানে থেকে নির্বাচন করে এই সংসদে এসেছি।’

সুলতান মনসুর বলেন, ‘মহাজোটের বিরোধী শক্তি বিএনপিসহ অন্যরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এটা ঠিকই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতির পিতার অনুসারী সর্বস্তরের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এই সংসদে পাঠিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ‘এই সংসদে আমার নেতা আছেন। সহকর্মী আছেন। আমার কর্মীও আছেন। অনেক ভাই-বোনে আছেন। এখানে সংসদ নেত্রী আছেন, যার ঘনিষ্ঠ হয়ে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য এই সংসদে আজ যারা আছেন, তারা একই জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আমিই বোধহয় একজন নীলমণি—এই জোটের বাইরে অন্য জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনি এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। সরকার প্রধান হিসেবে সংসদ নেতাকে ধন্যবাদ জানাই, অন্তত আমার নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচনে সেভাবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোথাও ঘটেছে না ঘটেছে, তা অন্যদের বিবেকের আদালতে নিজেরাই বলতে পারবেন।’

স্পিকার ও সংসদ নেতার সহযোগিতা কামনা করে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর বলেন, ‘মহাজোটের বিরোধী অন্য জোটের একজন ব্যক্তি হয়ে স্বাধীনভাবে জনগণ ও বাংলার মানুষের কথা যেন বলতে পারি, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারি এবং জনগণের কথা বলে সারা জীবন রাজনীতি করতে পারি, সেই সহযোগিতা পাবো বলে আশা করি। সংসদ নেত্রীও সেদিকটি বিবেচনায় রাখবেন বলে আশা করি।’

বঙ্গবন্ধু যে পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীও সে পথে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদের নেত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। কাজেই সেই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলের ডাকসাইটে সাবেক এই নেতা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে তিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হন। এ কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হন তিনি। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে দলের পদ থেকেও ছিটকে পড়েন। তারপর সক্রিয় রাজনীতি থেকে খানিকটা বিচ্যুতি ঘটে তার। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় আবারও লাইমলাইটে আসেন। ওই নির্বাচনে গণফোরামের টিকিটে ঐক্যফ্রন্টের বড় শরিক বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ