রোকেয়া হলের ঘটনা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: প্রভোস্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:২১, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫২, মার্চ ১৪, ২০১৯

রোকেয়া হলের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদেরন মুখোমুখি প্রোভস্টঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সময় রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গোলযোগের ঘটনাটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অথবা 'গুজবের' কারণে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রভোস্ট জিনাত হুদা। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোকয়ো হলের প্রভোস্ট বলেন, ‘ওইদিন হলে যা ঘটেছে তা 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' অথবা 'গুজবের' কারণে হয়ে থাকতে পারে। ভোটের আগে ব্যালট বাক্স সিল মারার প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে দ্বিধার মধ্যে থাকায় ভোট গ্রহণ দেরিতে শুরু করা হয়।’

তবে প্রার্থীদের অভিযোগ, যদি রোকেয়া হলের শিক্ষকদের উদ্দেশ্য সৎ থাকতো তাহলে ব্যালট বাক্সে সিল মারতে বিলম্ব করতেন না।

রোকেয়া হলের প্রভোস্ট আরও বলেন, ‘ভোটের দিন সকালে গণমাধ্যমকর্মী এবং ছাত্রলীগসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের সামনে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হয়েছে। যার প্রমাণ আমাদের হাতে থাকা ছবিগুলো। কিন্তু ব্যালট বাক্স সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে আমার দ্বিধার মধ্যে ছিলাম। সেটা কীভাবে করবো এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েই আমাদের ভোট গ্রহণ শুরু করতে দেরি হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রোকেয়অ হলের প্রোভস্ট
রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. দিলারা জাহিদ বলেন, ‘আমাদের ব্যালট বাক্স সরবরাহ করা হয়েছিল ৬টি। কিন্তু বলা হচ্ছে ৯টি ব্যালট বাক্স ছিল, ৩টি গায়েব।’

চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি কাগজ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এইখানে ৬টি ব্যালট বাক্স সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাংকে যেসব ব্যালট পেপার ছিল সেগুলো আমাদের দায়িত্বে ভোট কক্ষের পাশের একটি রুমে রাখা হয়েছিল। কারণ একসঙ্গে সাড়ে চার হাজার ব্যালট পেপার সামনে নিয়ে এনে রাখার প্রয়োজন ছিল না। অব্যবহৃত ব্যালট ক্রস চিহ্ন ছাড়াই রক্ষিত ছিল, ইনটেক। সেদিন যখন নুর, রাশেদরা এসে বললো রুম দেখাতে, আমরা সেটা তো পারি না। আমরা চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। চিফ রিটার্নিং স্যার নিজে এসেছেন তারপর দেখানো হয়েছে।’

রোকেয়া হলের ঘটনা কোনও প্রকার গুজবের কারণে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জিনাত হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গুজবের কারণেও হতে পারে, আবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে।’

আমরণ অনশনরত রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরাতবে প্রভোস্টের কথার উল্টো বক্তব্য দিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে জায়গায় ব্যালটগুলো ট্রাংকে রাখা হয়েছিল সেটা একটা পরিত্যক্ত রুম। আমরা যখন দেখতে চেয়েছিলাম, তারা আমাদেরকে দেখতে দেয়নি। তারা বলেছে চিফ রিটার্নিং এবং প্রক্টর স্যারকে লাগবে নাকি দেখতে। যদি তাদের উদ্দেশ্য সৎ থাকতো তাহলে তারা দেখাতো।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে ছাত্রলীগ বাদে সব প্যানেল ও ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিল দেওয়া ব্যালট উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে রোকেয়া হলে তিন ট্রাঙ্ক ভর্তি ব্যালট উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ছাত্রলীগ, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলনের দেওয়া প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে গোলযোগ বাধে। এরই এক পর্যায়ে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নরুল হক নুর অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা তাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে তাকে আঘাত করা হয়। পরে বুধবার রাত থেকে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদার পদত্যাগ ও হল সংসদে নতুন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন পাঁচজন শিক্ষার্থী।

/এসও/টিটি/

লাইভ

টপ