অনশনকারীরাও যান না, প্রভোস্টও আসেন না!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৩, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৪, মার্চ ১৪, ২০১৯

ছাত্রীদের অনশনঅনশনকারী ছাত্রীরা চান প্রভোস্ট এসে তাদের কথা শুনুক। আর প্রভোস্ট চাচ্ছেন ছাত্রীরা তার কাছে আসুক। কিন্তু, কেউই কারও কাছে যাচ্ছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

কারচুপির অভিযোগ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন, হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও ছাত্রীদের ওপর মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চারজন বিভিন্ন প্যানেল থেকে হল সংসদে প্রার্থী ছিলেন। বুধবার (১৩ মার্চ) রাত নয়টা থেকে তারা রোকেয়া হলের প্রধান ফটকে অনশন শুরু করেন।

তাদের পুনর্নির্বাচনের দাবির বিষয়ে হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা জানান, এই এখতিয়ার তাদের নেই। তিনি ছাত্রীদের এসে তার কাছে অভিযোগগুলো জানাতে আহ্বান জানান। আর অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা চাই উনি আসুক, অভিভাবক হিসেবে আমাদের কথা শুনুক।

রোকেয়া হলের সামনে অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন,  ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা।

রাফিয়া সুলতানা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে রোকেয়া হল সংসদে সহসভাপতি (ভিপি), সায়েদা আফরিন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে হল সংসদে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস),  শ্রবণা শফিক দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ও প্রমি খিশা হল সংসদে সদস্যপদে ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থী ছিলেন। জয়ন্তী রেজা প্রার্থী ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জানান, তিনদিন ধরে আমিসহ আবাসিক শিক্ষকরা কেউ ঘুমাতে পারিনি। সারারাত আমরা জেগে আছি। ছাত্রীদের সঙ্গে আমরা গতদিনের আগেরদিনও কথা বলার চেষ্টা করেছি। বুধবারও আমাদেরকে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে বলা হয়েছিল, আপনারা কখন বসবেন। আমরা বসার একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারা সেই প্রস্তাবটিতে রাজি হয়নি। বুধবার আমি সারাদিন বসে ছিলাম। আজকেও সকাল ১০ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বসেছিলাম, যে ছাত্রীরা আসবে, তাদের কথাগুলো বলবে। আমি বলেছিলাম, তোমরা ১১টার মধ্যে এসো বা তারপরেও আসতে পারো, সমস্যা নেই। বুধবারের আগের রাতে আমরা প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সারারাত থেকেছি তাদের বক্তব্য শোনার জন্য। আমি নিজেও তাদের সঙ্গে বুধবার কথা বলেছি, তাদের বক্তব্য কি জানার জন্য।

অনশনরত শিক্ষার্থী প্রমি খিশা বলেন, ‘আমরা চাই উনি আসুক। উনি নিজেকে একজন অভিভাবক হিসেবে দাবি করেন। আমরা এখানে বসে আছি, সারারাত এখানে ওনার জন্য অপেক্ষা করছি। ওনার কি একবার আসা উচিত না? আমরা কেন যাবো? উনি আসবেন এখানে। ওনাকে বারবার করে বলা হচ্ছে, বারবার রিকোয়েস্ট করা হচ্ছে, উনি কেন আসছেন না।’

/এসও/এনআই/

লাইভ

টপ