প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৩৯, মার্চ ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৯, মার্চ ১৬, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুনর্নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙেছে। প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের গাড়িতে করে অনশনরত শিক্ষার্থীদের হাসতাপালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাবি’র প্রোভিসি ড. মো সামাদ।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন প্রক্টর, প্রোভিসি, নবনির্বাচিত ভিপি, জিএস ও এজিএস। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার কথা শুনেন। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অনশন তুলে নেন। এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামাদ আগামী সোমবার (১৮ মার্চ) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস এবং অভিযোগগুলো নিয়ে প্রধান রিটার্নিং অফিসার সঙ্গে নিয়ে আলোচনার কথা বলেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ অনশনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের সব অভিযোগ আমরা শোনবো। এটাই তো শেষ নির্বাচন নয়, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে এটাই বড় বিষয়। তোমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করে আগামীতে আরও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। তবে আমি আবারও বলছি এবার যা ঘটেছে তার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। আমি চাই তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করতে। আমি তোমাদের অনশন ভাঙতে জোর করবো না। তবে আমি চাইবো তোমরা আমার কথা শুনবে এবং আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করবো।’

স্বচ্ছ ভোট বাক্স বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের কাছে খুব ছোট একটা দাবি। তোমারা জানালে এটা আগেই করা হতো। আমরা অবশ্যই ভোট বাক্স নির্বাচন কমিশন থেকে কিনে আনতে পারতাম।’

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা আগেই এ দাবিটি করেছিলাম কিন্তু তা রাখা হয়নি।’

পরে প্রোভিসি বলেন, এটা আমার জানা ছিল না।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘তোমাদের দাবিগুলো আমরা শুনবো। স্বচ্ছতার কোনও শেষ নেই। পরবর্তীতে আমরা আরও গুরুত্ব দেবো। তোমরা তোমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমাদের দাও আমরা তোমাদের কথা শুনবো তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করবো।’

এর আগে, অনশনে থাকা বাকি চার শিক্ষার্থীরা হলেন, সিইসি'র চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজিম, জার্নালিজম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না, পপুলেশন্স সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন ও আইআর'র দ্বিতীয় বর্ষের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম।

এছাড়া বাকি চার শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে- ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ তাহা, ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা শোয়েব মাহমুদ, সিইসি'র মাস্টার্সের শিক্ষার্থীর মিম আরাফাত মানব ও দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল এখনও হাসপাতালে রয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় অসুস্থ তিন শিক্ষার্থী হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে অনশনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ফের অসুস্থ হওয়ায় তাদের আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

/এসজেডএ/এআর/

লাইভ

টপ