ফিডব্যাক এলে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫২, এপ্রিল ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৯, এপ্রিল ০৮, ২০১৯

দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, ‘দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর চিকিৎসার রিপোর্ট সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন। সেখানকার চিকিৎসকরা যদি বলেন রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হোক তাহলে আমরা পাঠিয়ে দেবো। সিঙ্গাপুর থেকে ফিডব্যাক এলেই দগ্ধ শিক্ষার্থীকে সেখানে পাঠানো হবে।’
সোমবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থীকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন রোগী লাইফ সাপোর্টে আছে। নিজে নিশ্বাস নিতে পারছে না, অবস্থা সংকটাপন্ন। তার মা-বাবা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের রোগীর বর্তমান অবস্থা জানিয়েছি। যদি তাকে বাইরে নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে তাহলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্দেশ দিয়েছেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হোক আমরা এটা আশা করি। এ ব্যবস্থা সরকার করবে। আমাদের (ঢামেকে) এখানে দগ্ধ শিক্ষার্থী যতদিন আছে ততদিন সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করছি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তার অবস্থা সংকটাপন্ন। এ অবস্থায় পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও যদি তার পরিবার রাজি থাকে এবং সেখানে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে বলে তাহলে আমরা পাঠিয়ে দেবো।’

প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরা ৪/৫ ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা ওই ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, শনিবার সকালে তার বোনের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যান তিনি। তবে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে তাকে আটকে দেন নিরাপত্তাকর্মী মোস্তফা। এরপর তার বোন একাই হেঁটে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এরপর নোমান কেন্দ্রে থেকে একটু দূরে চলে আসেন। এর ১৫-২০ মিনিট পরই মোবাইলে তিনি তার বোনের অগ্নিদগ্ধের খবর পান। ফের কেন্দ্রে ছুটে গিয়ে বোনকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের মাওলানা একেএম মানিকের মেয়ে। অভিযোগ আছে, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করে। এ কারণে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা বর্তমানে ফেনী কারাগারে আছেন।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

                 ফেনীর সেই মাদ্রাসাছাত্রীর চিকিৎসায় ৮ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড

                 পরিবারের দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কথা আগেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিলো

 

/এআইবি/এআরআর/ওআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ