চীনা ঋণ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন বিশ্লেষকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৯, এপ্রিল ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০২, এপ্রিল ১২, ২০১৯

সেমিনারে বক্তরাচীনা ঋণ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন বিশ্লেষক ড. রিচার্ড এল. বেনকিন। তিনি বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ইংরেজি দৈনিক এশিয়ান এজ আয়োজিত ‘ডেব্ট ট্র্যাপ ডিমপ্লোমেসি: অ্যা রিজিওনাল থ্রেট’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. রিচার্ড এল. বেনকিন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ড. রিচার্ড গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং এই অর্থবছরে ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হবে বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পূর্ভাবাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বড় আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। ক্রেডিট বা ঋণ সম্পর্কে বাজারে অনেক মতবাদ প্রচলিত আছে। তবে অধিক পরিমাণ ঋণ নেওয়া কখনোই ভালো কিছু নয়।’

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া ২৩ দেশের কথা উল্লেখ করে রিচার্ড বলেন, এসব দেশ ঠিকই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ সংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, মিসর, পাকিস্তান, জর্ডান, লেবানন, ইউক্রেনের কথা উল্লেখ করেন। চীনকে একটি গণতন্ত্রহীন ও মানবাধিকারহীন রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশেও এ ধরনের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠের আগে স্বাগত ব্ক্তব্য দেন এশিয়ান এজ পত্রিকার এডিটর ইন চিফ সৈয়দ বদরুল আহসান।  

সেমিনারে মার্কিন বিশ্লেষকসেমিনারের মুক্ত আলোচনায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ বলেন, ‘ঋণ গ্রহণে যত্নবান ও সতর্ক না হলে ঋণের ফাঁদ মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হতে পারে। তিনি মেগা প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী চীনের কাছ থেকে যেকোনও ধরনের ঋণ নেওয়ার আগে আরও বেশি বেশি পেপার ওয়ার্কের পরামর্শ দেন।   

তবে ড. রিচার্ডের অধিকাংশ যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চীনা ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এই ঋণ নিয়ে যদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় তাহলে তা কখনোই খারাপ কিছু হাতে পারে না। ঋণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হলেই কেবল এর একটা খারাপ দিক থাকে।’

চীনের সঙ্গে ঋণের লেনদেন করে পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বীকার করে অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বাড়তি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করে এশিয়ান এজের সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি শোয়েব চৌধুরী।

 

/এইচএএইচ/এসটি/

লাইভ

টপ