গণতন্ত্রে অবিশ্বাসীরা ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চায়: মাহবুব তালুকদার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৫১, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৩, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

বক্তব্য রাখছেন ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদারগণতন্ত্রের প্রতি অবিশ্বাসীরা ভোটের উৎসবকে কলুষিত ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদতার।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোটার তালিকা হালনাগাদ-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ভোট দুই অক্ষরের একটি ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত ও ব্যাপক। ভোটের সঙ্গে নির্বাচন ও গণতন্ত্র জড়িত রয়েছে। ভোট এটি জনগণের রক্ষকবচ। ভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তা জাতীয় পর্যায়ে বা স্থানীয় পর্যায়ে উভয় স্তরেই হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভোট হচ্ছে স্বাধীন দেশে জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক একটি পবিত্র আমানত। ভোটের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান এবং এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, আমরা যাকে বলি নির্বাচন। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র অবলম্বন। যারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তারা ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চায়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। আমরা যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ নির্বাচনের কথা বলি, ভোটের পবিত্রতা বিনষ্ট করে তা সম্ভব নয়। ভোট সুষ্ঠু না হলে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের কোনও ঔজ্জ্বল্য থাকে না। স্বাধীন দেশে অস্বচ্ছ নির্বাচন তথা কুয়াশাচ্ছন্ন গণতন্ত্র কখনও কাম্য নয়।’

এই কমিশনার বলেন, ‘‘আঠারো বছর হলেই একজন নাগরিক ভোটার হওয়ার উপযুক্ততা অর্জন করেন। কিন্তু ‘ভোট দেবো’ কথাটার সঙ্গে রাজনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। সামান্য ভোট দেওয়ার জন্যই তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের অসামান্য আয়োজন। একজন ভোটার নিবিঘ্নে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, এইটুকু চাওয়া অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় না।’

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু ও শুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত হলো শুদ্ধ ভোটার তালিকা। ভুয়া ভোটারদের কাগুজে উপস্থিতি নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করে। এছাড়া, ভোটার তালিকায় মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের উপস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এজন্যই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৩ এপ্রিল দেশব্যাপী যে ভোটার তালিকা নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,  নতুন ভোটারদের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। একজন নবীন ভোটার কেবল যে তালিকায় নিবন্ধিত হয়ে নির্বাচনে ভোটদানের যোগ্যতা অর্জন করেন তা-ই নয়, ভোটার হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি পরিপূর্ণ নাগরিকত্বে অভিষিক্ত হন। প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জন ব্যক্তি জীবনের একটি মাইলফলক।’

ইসি’র এই কমিশনার বলেন, ‘প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে নিষ্ঠা ও সততা না থাকলে ভোটার তালিকা যথাযথ হওয়া সম্ভব নয়। যদি নিষ্ঠার সঙ্গে তালিকা প্রণয়ন না করা হয়, তাহলে ভোটার তালিকা তৈরির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। আর যদি সততার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন না করা হয়, তাহলে নির্বাচনই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে। সুতরাং, নিজেদের বিবেকবোধের কাছে দায়ী থেকে ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব পালনে আপনাদের সদা সর্তক থাকতে হবে, যাতে কোনও প্রকার বিচ্যুতি না ঘটে।’

এ সময় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ