গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫ শতাংশে কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে: পরিবেশমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৬, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

পৃথিবীর উষ্ণায়ন ঠেকাতে হলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’  

বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘থার্ড ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফ বাংলাদেশ টু দি ইউনাইটেড ন্যাশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জ্বালানি পরিবহন, শিল্প কারখানা, কৃষি, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, বন উজাড় ও অবক্ষয় এবং বর্জ্যের মতো ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস বেশি পরিমাণে নিঃসরিত হচ্ছে। বিশ্বের দেশগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে এই নিঃসরণ কমানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতি পালনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমাদের সরকারের আন্তরিকতার কোনও অভাব নেই।’

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অনেক কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পেলে আমাদের কাজ আরও তরান্বিত হবে।’

অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকৌশল আমরা যখন করেছি, তখন বিশ্বে কেউ করেনি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা বন্যাপ্রবণ। পানির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা ৮ শতাংশ পানি বৃষ্টি থেকে পাই। বাকি ৯২ শতাংশ বাহির থেকে আসে। ৫৮টি নদী ভারত থেকে এসেছে, ৩টি মিয়ানমার থেকে। ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬ সালে। তারপর কী হবে সেটা এখন থেকে ভাবা উচিত। বৃষ্টির সময় পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা সবকিছুতে ছন্দপতন হয়েছে, হচ্ছে। আমরা অনেক বিষয়েই আত্মতুষ্টিতে ভুগি। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে কাজে অগ্রগতি হয় না। জমি কমছে, মানুষ বাড়ছে, কাজেই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একটা মানুষের অক্সিজেনের জন্য গড়ে ৭-৮টি গাছ লাগে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে গাছ লাগাতে হবে আরও বেশি করে। বন্যা প্রতিবছর আঘাত করে। ২২-২৩ শতাংশ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় ক্ষতি সামলানোর বিষয়টি আমরা অনেকটা রপ্ত করেছি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেক উন্নতি লাভ করেছে। উদ্বাস্তু সমস্যা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উদ্বাস্তু হওয়া জনগণকে দেশে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ এসবের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগও আছে, এখন শুধু অল্প সময়ে অধিক কাজ করতে হবে।’

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদির, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সলিমুল হক খান ও ইউএনডিপি এর ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ কিউকো ইউকুসুকু।

 

/এসআই/এএইচ/

লাইভ

টপ