দেশীয় পদ্ধতিতেও ভাঙা হতে পারে বিজিএমইএ ভবন

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ২১:১৩, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৫, এপ্রিল ১৭, ২০১৯





বিজিএমইএ ভবন (ছবি- নাসিরুল ইসলাম)

রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন কীভাবে ভাঙা হবে তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। কন্ট্রোল ডেমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ প্রযুক্তির কথা বলা হলেও ভবনটি ভাঙতে দেশীয় পদ্ধতিও ব্যবহার হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি নির্ভর করছে দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের ওপরে।
রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, কন্ট্রোল ডিমোলেশনের মাধ্যমেই ভবনটি ভাঙা হবে। এ জন্য চীনা বিশেষজ্ঞদের ভবনটি দেখানো হয়েছে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, দরপত্রে অংশ নেওয়া কোনও প্রতিষ্ঠানের যদি ওই জাতীয় ভাঙার যন্ত্রপাতি থাকে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তারা যদি বলে, তাদের এমন যন্ত্রপাতি নেই, রাজউকের যন্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্য করুন, তা করা হবে।
হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, ‘ভবনটি ভাঙার জন্য আমরা এরইমধ্যে চীনা বিশেষজ্ঞদের দেখিয়েছি। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। মূলত ভবনটি কন্ট্রোল ডিমোলেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে। এর আগে র‌্যাংগস ভবন অপসারণ করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। আমরা চাই না সে রকম ঘটনা আর ঘটুক।’
তবে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে ভাঙা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষ বলে আসছেন কন্ট্রোল ডিমোলেশনের মাধ্যমেই বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে। এখন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটিই হবে।’
জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনগতভাবে বাইরের পার্টিকে ইনভাইট করতে হয়। ইনভাইটেশনে কেউ যদি পার্টিসিপেট করে এবং তাদের যদি ওই জাতীয় ইন্সট্রুমেন্ট থাকে আমরা তাদের ওয়েলকাম করবো। তারা যদি বলে আমাদের এমন যন্ত্র নেই, আপনাদের মেশিনারিজ দিয়ে হেল্প করেন, আমরা হেল্প করবো।’
তিনি বলেন, ‘তবে এই ভাঙাভাঙির প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাদের (রাজউক) নিজেদের লেগে থাকা সম্ভব নয়। সে জন্যই আমরা এই কাজটি করেছি। যে কোনও কনস্ট্রাকশনের সময় আমাদের লেবাররা কাজ করে না। আমরা বাইরের লেবার দিয়ে করিয়ে থাকি। এটা একটা প্রক্রিয়া।’
এদিন দুপুরে সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে। তবে কী পদ্ধতিতে ভবনটি ভাঙা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ২৫ এপ্রিল।’
ভবন ভাঙার বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করেছে রাজউক। তাতে বলা হয়েছে, ভবন ভাঙার কাজে পারদর্শী আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে হবে। ভবনটি ভেঙে তিন মাসের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। এ জন্য কোনও অর্থ দেবে না রাজউক। যারা ভবন ভাঙবে, তারাই মালামাল ক্রয়ের দরপত্র দাখিল করতে পারবে। ভবন ভাঙার সময় যদি কোনও ব্যক্তি আঘাত পান বা নিহত হন, সে দায়ভার রাজউক নেবে না। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজউক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদি কোনও বিদেশি বা কন্ট্রোল ডিমোলেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন কোনও প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ না নেয় তাহলে দেশীয় প্রযুক্তি দিয়েই ভবনটি ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য দরপত্রে ভবন ভাঙার সময় যদি কোনও ব্যক্তি আঘাত পান বা নিহত হন, সে দায়ভার রাজউক নেবে না বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে ভবন ভাঙতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’
ভবনটি ভাঙার ব্যয় বিজিএমই’কে দিতে বলা হলেও রাজউক দরপত্রে এ জন্য কোনও অর্থ দেবে না বলে শর্ত দিয়ে দিয়েছে।
জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবন ভাঙার পর ওখানে কোটি কোটি টাকার মেটেরিয়ালস পাওয়া যাবে। যারা ভাঙবে তারা আমাদের কী দিয়ে নেবে, সেটা দেখার বিষয়। যদি দেখি যে কেউ না দিয়েও নিতে চায় সেখানে আমরা তাদের ওয়েলকাম জানাবো। আমাদের টাকা লাগবে না।’
উল্লেখ্য, নিয়মনীতি না মেনে পোশাকশিল্প মালিকদের তৈরি করা বিজিএমইএ ভবনকে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট ‘হাতিরঝিল প্রকল্পের ক্যানসার’ বলেন। এ সংক্রান্ত মামলায় বিজিএমইএ‘কে নিজ খরচে ভবনটি ভাঙার রায় দেন আদালত। এরই ধারবাহিকতায় রাজউকের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভবনটিতে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ