সাজা শেষ হলেও ৮৬ বিদেশি বন্দি দেশের কারাগারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৮, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০২, এপ্রিল ২০, ২০১৯

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত `কমব্যাটিং ট্র্যাফিকিং: রিপেট্রিয়েশন অব ভিকটিমস অব ট্র্যাফিকিং` শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

বিভিন্ন অপরাধে বাংলাদেশের কারাগারে সাজা খাটা ৮৬ বিদেশি নাগরিকের কারাভোগ শেষ হয়েছে। তবে নিজ নিজ দেশ থেকে তাদের কেউ নিতে না আসায় তারা এখনও কারাগারেই আছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর একটি হোটেলের বলরুমে আয়োজিত মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক ‘রিজিওনাল কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এর সহযোগিতায় 'কমব্যাটিং ট্র্যাফিকিং: রিপেট্রিয়েশন অব ভিকটিমস অব ট্র্যাফিকিং' শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের ৪৯৫ নাগরিক বাংলাদেশের জেলখানায় বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৬ জন মুক্ত হলেও কোনও দেশ তাদেরকে নিতে রাজি হয়নি। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা আমাদের জেলখানায় রয়েছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ল্যাটিন আমেরিকায় প্রচুর জমি ছিল, কিন্তু কাজ করার মানুষ ছিল না। সেখানে নির্দয়ভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ধরে এনে জোর করে কাজ করানো হয়েছিল। একসময় আরবেও ক্রীতদাস প্রথা ছিল। আসলে ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাইও হয়। একটা সময় বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার হয়েছে। এখনও হচ্ছে, তবে সেটা সংখ্যায় কমে আসছে। এখন যেটা হচ্ছে তা প্রলুব্ধ করা। বাংলাদেশ থেকে এখন জোর করে নয়, প্রলুব্ধ করে লোকজনকে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। এতে তারা ভিকটিম হচ্ছে, অনেকে বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত। আমাদের মানুষকে জোর করে, কখনও প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্পষ্ট করে বলতে পারি আগের তুলনায় ভলো অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ পাচার করা হয়। তবে এখন প্রলুব্ধ হওয়া মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। অনেকে এখন বাংলাদেশে আসছে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর জন্য। বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের সংখ্যা অনেক কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় মানব পাচার রোধে পুলিশের কমিটি রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়। এছাড়া, বর্ডার এলাকায় বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলাদেশে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জোর করে এ অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে রয়েছে। জোর করে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের পাঠানো হচ্ছে। ওই সময় যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার খুলে না দিতেন তাহলে নাফ নদী রক্তে লাল হয়ে যেতো।

রোহিঙ্গাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বেঁচে থাকা। ২০১৫ সালে নৌকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার যারা চেষ্টা করছিল, যে ঘটনাটি অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তখনকার বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা নাগরিক। এখনও যারা নৌপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের ৮০ ভাগই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

ভারতের আদালত থেকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাদল ফরাজিকে বাংলাদেশে আনা হলেও তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাদল ফরাজির বিষয়টা নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। এখন একটাই পথ খোলা রয়েছে রাষ্ট্রপতি যদি তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন, তাহলেই তিনি মুক্তি পাবেন। কখনও যদি সে সুযোগ আসে, রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করেন তাহলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশের প্রধান গিওরগি গিগাউরি, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, অ্যাটসেক ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মানবেন্দ্রনাথ মণ্ডল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

/এআরআর/টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ