ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে কাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০১, এপ্রিল ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৩, এপ্রিল ২২, ২০১৯

নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় দেশের ৬৪টি জেলার ১৩৫টি উপজেলা/থানায় এই হালনাগাদের কাজ শুরু হবে। এ দফায় রাজধানীর ডেমরা, সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানার ভোটারযোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কয়েকটি ধাপে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত সারাদেশের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা রাজবাড়ীতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া, কমিশনার রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামে, কবিতা খানম সিলেটে, শাহাদাত হোসেন সাভারে, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ রাজশাহীতে, অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান রংপুরে ও এনআইডির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম কুমিল্লায় হালনাগাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, যাদের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের তথ্য হালনাগাদের লক্ষ্যে সংগ্রহ করা হবে। তবে, যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগেই তারাই কেবল আগামী বছর (২০২০) ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। বাকিরা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার হয়ে যাবেন। এবার পুরুষ ও নারীর পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। আগে হিড়জারা নারী বা পুরুষ নামে ভোটার হওয়ার সুযোগ পেলেও এবার তারা হিজড়া পরিচয়েই ভোটার হতে পারবেন।

হালনাগাদে ভোটারযোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তিদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ভোটার স্থানান্তরের আবেদনও নেওয়া হবে।

এবার প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে ইসি কর্মকর্তাদের ধারণা।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ চলবে। ভোটার তথ্য সংগ্রহের সময় যদি কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ পড়ে যান, তারা নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে ৫২ হাজার ৫০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ১০ হাজার ৫০০ জন সুপারভাইজার ও ৭৮০ জন সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের, মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে, নারী ভোটারদের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আলাদা আলাদা প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারী যাতে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন— সে বিষয়েও কড়াকড়িভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি জায়গায় বসে যেন তথ্য সংগ্রহ করা না হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নিতে হবে। তথ্য সংগ্রহকারীদেরও নজরদারিতে রাখা হবে বলেও কমিশন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে কমিশন থেকে ১৬ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩২টি উপজেলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। ওই এলাকায় গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছাড়া কেউ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
প্রথম ধাপে যেসব উপজেলা/থানার তথ্য সংগ্রহ করা হবে

প্রথম ধাপে যেসব উপজেলা/থানার তথ্য সংগ্রহ করা হবে সেগুলো হলো— পঞ্চগড় সদর, ঠাকুরগাঁও সদর, দিনাজপুর সদর ও নবাবগঞ্জ, নীলফামারীর সদর ও ডিমলা, লালমনিরহাট সদর, রংপুর সদর ও পীরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম সদর ও রৌমারী, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি।

জয়পুরহাট সদর, বগুড়া সদর, দুপচাচিয়া ও সারিয়াকান্দি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, রাজশাহীর বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, নাটোরের সদর ও সিংড়া, সিরাজগঞ্জের সদর ও তাড়াশ এবং পাবনার সদর ও ঈশ্বরদী।

খুলনা অঞ্চলের মেহেরপুর সদর, কুষ্টিয়ার সদর ও দৌলতপুর, চুয়াডাঙ্গা সদর, ঝিনাইদহের সদর ও হরিণাকুণ্ডু, যশোরের সদর, অভয়নগর ও বাঘারপাড়া, মাগুরা সদর, নড়াইল সদর, বাগেরহাটের সদর ও শরণখোলা, খুলনার সদর, সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর এবং সাতক্ষীরার সদর ও তালা।

বরগুনা সদর, পটুয়াখালীর সদর ও গলাচিপা, ভোলার সদর ও মনপুরা, বরিশালের সদর, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী, ঝালকাঠি সদর এবং পিরোজপুরের সদর ও নেছারাবাদ।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের টাঙ্গাইলের সদর, সখীপুর ও ঘাটাইল, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ, শেরপুরের শ্রীবরদী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জ ও গফরগাঁও, নেত্রকোনার সদর ও কলমাকান্দা এবং কিশোরগঞ্জের সদর, পাকুন্দিয়া ও তাড়াইল।

মানিকগঞ্জ সদর ও শিবালয়, মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া, নরসিংদীর মনোহরদী ও পলাশ, নারায়ণগঞ্জের সদর ও আড়াইহাজার, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, সাভার, সূত্রাপুর, কোতয়ালী ও ডেমরা এবং গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিগঞ্জ ও কাপাসিয়া।

গোপালগঞ্জের সদর ও টুঙ্গিপাড়া, মাদারীপুরের কালকিনি, শরীয়তপুরের সদর ও ডামুড্যা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর এবং রাজবাড়ী সদর। সুনামগঞ্জের সদর ও বিশ্বম্ভরপুর, সিলেটের সদর, বালাগঞ্জ ও কানাইঘাট, মৌলভীবাজারের সদর ও শ্রীমঙ্গল এবং হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সদর ও নাসিরনগর, কুমিল্লার লালমাই, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, লাকসাম ও হোমনা, চাঁদপুরের সদর ও হাজীগঞ্জ, ফেনীর সদর ও পরশুরাম, নোয়াখালী সদর, কোম্পানিগঞ্জ ও সেনবাগ এবং লক্ষ্মীপুরের সদর ও রামগতি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু, মিরসরাই, কর্ণফুলী, লোহাগড়া, চন্দনাইশ ও আনোয়ারা, কক্সবাজারের সদর ও কুতুবদিয়া, খাগড়াছড়ি সদর, রাঙ্গামাটি সদর ও বান্দরবান সদর।

বর্তমানে দেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন নারী।

 

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ