নারীদের এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করতে হবে: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৫:১৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২৬, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ডড‘নারীদের সাহস করে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করতে হবে। একজন কোহিনূর, একজন রেহানা যদি মুখ খোলে তাহলে লাখ লাখ কোহিনূররা বেঁচে যাবে। তাই এই সাহসটার খুব প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। প্রতিবাদ না করলে সমাধান আসবে না।  আমাদের জনসংখ্যার শতকরা ৫২ শতাংশ নারী। আমরা নারীরা যদি প্রতিবাদী হতে পারি, তাহলেই কিন্তু এই সমাজ থেকে, কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গা থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব।’

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্কেচিং উইমেন ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।  

এ সময় তিনি বলেন,  ‘নেপলিয়ান বলেছেন,  “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটা শিক্ষিত জাতি দেবো।”  তিনি বলেননি, “আমাকে একটা শিক্ষিত বাবা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।” মায়ের কথা বলেছেন তিনি। মা-ই পারেন তার সন্তান থেকে শুরু করে সমাজের মানুষদের ভালো পথে রেখে সৎভাবে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক, দেশের কর্ণধার হিসেবে গড়ে তুলতে। একজন বাবা কিন্তু তা পারেন না।’

লজ্জায় অনেক সময় নারীরা মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না– এমন দাবি করে মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘সমাজের কুসংস্কার এই যে, কোনও নারী যদি তার প্রতি নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে তাহলে তাকে অবিবাহিত থাকতে হয়।  এমন একটা পরিস্থিতি দাঁড়ায়।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিপীড়নের শিকার নারীদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌন নিপীড়নের শিকার দুই-আড়াই লাখ মা-বোন কিন্তু সমাজ-সংসার করে যেতে পারেননি।’

নারীনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নারীনীতি করে দেওয়ার পর কোনও নারীনেত্রীকে মাঠে নেমে ধন্যবাদ জানাতে দেখলাম না। বরং যে ধর্মান্ধরা রাস্তায় নেমে এই নারীনীতির বিরোধিতা করেছে, তার বিপক্ষে নামা তো দূরের কথা, একটি বিবৃতিও কেউ দেয়নি। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।’       

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের কান্ট্রি প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি দেখেছি একটি মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারণ সে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করেছিল। তাই আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বন্ধে আইনি কাঠামো যথাযথ শক্ত নয়। বাংলাদেশ হাইকোর্টেরও একটি নির্দেশনা আছে এই বিষয়ে, কিন্তু সেটিও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।’

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর তুইমো পুতিয়েনেন বলেন, ‘ইউএন উইমেনের সঙ্গে যৌথ এক সমীক্ষায় আমরা দেখেছিলাম যে, ৬০ শতাংশ নারী বারবার মৌখিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তিন শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। নেতৃস্থানীয় পর্যায়েও নারীদের সম্পৃক্ততা কম আমরা দেখেছি। গার্মেন্টস শিল্প নারীর অর্থনীতিক ক্ষমতায়নে অনেক বড় অবদান রাখছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য এবং কর্মপরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। এগুলোর পরিবর্তন হওয়া জরুরি। আইএলও মনে করে, কর্মক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ সব শ্রমজীবী মানুষের অধিকার।’

আলোচনা সভার আগে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কেন্দ্রে নারীর বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তুইমো পুতিয়েনেন। প্রদর্শনীতে ১৬ জন আলোকচিত্রীর ৬২টি ছবি প্রদর্শিত হয়। কেয়ার বাংলাদেশ পরিচালিত প্রদর্শনীটি আইএলও কনভেনশনের প্রচারণার অংশবিশেষ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। যার উদ্দেশ্য নারী শ্রমিকদের জন্য হয়রানি ও সহিংসতামুক্ত কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি। জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে এই নারীদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নে প্রস্তাবটি উপস্থাপিত হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদি সবাই সম্মত হয় তাহলে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাসহ নারীদের কর্মস্থলে সহিংসতা ও হয়রানির অবসান ঘটাতে এটি বিশ্বের প্রথম চুক্তি হবে বলেও জানায় কেয়ার বাংলাদেশ। 

এ সময় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, আলোকচিত্রী রাকিবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শুরুর আগে একটি ফটোবুকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।  অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী।

 

/এসও/এমএএ/

লাইভ

টপ