রাজউকের প্রতিবেদনে পাওয়া নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১১, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা শহরের নকশাবহির্ভূত ভবনের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বহুতল ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মিত ভবন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কার পার্কিং, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য রাজউককে নির্দেশ দিয়েছি। ২৪টি টিমের মাধ্যমে রাজউক এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বুধবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরের সময় মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, পুরনো ঢাকার চুরিহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১জন নিহত ও ৪১ জন আহত এবং বনানী এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিহত ও ৭১ জন আহত হয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণ করতে গিয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্বজন হারানো যে কতটা কষ্টের তা আমি বুঝি। পায়ের নিচের মাটিটুকুও থাকে না। অনেকে হয়তো অগ্নিকাণ্ডে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকেও হারিয়েছেন। সন্তান হারানো পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পিতা হারানো সন্তান কিংবা স্বামী হারানো স্ত্রীর কষ্টটুকু আমি তাদের মতো করেই অনুভব করি। আমাদের সরকার ও আমি জনগণের প্রয়োজনে সব সময় তাদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছি। এটা আমার উত্তরাধিকারের দায়বোধ।’

চুরিহাট্টা ও এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চুরিহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর আমরা একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এতে জানা যায়, ভবনটিতে অননুমোদিতভাবে কেমিক্যাল গোডাউন ও  রিফিলিং কারখানা ছিল, যেখানে বিপুল পরিমান বডি স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসল, গ্যাস লাইটার, ফুয়েল ইত্যাদি গুদামজাত করা ছিল।’

এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের অটোলক সিস্টেম, ফায়ার লিফট ও ইমার্জেন্সি এক্সিট ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটিতে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার সার্ভিস থেকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন নেওয়া হয়নি। রাজউক থেকে ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ২২ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগেই ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শন করে অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিষয়াদি নিশ্চিত করতে নোটিশ দেয়। কিন্তু এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এবং রাজউক ৫ সদস্যের একটি করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দুটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ কাজে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কিনা তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখছে।

নওগাঁ-২ আসনের সংষদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দশ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। অসাধুচক্র যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে টিসিবির সক্ষমতা ও মজুদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও চিনি, তেল, ছোলা, মশুর ডাল, খেজুর ও পেঁয়াজ সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবে টিসিবি। ঢাকা মহানগরীতে ৩৫টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১০টি ও বাকি ৬টি বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং ৫৬ জেলা শহরে দুটি করে মোট ১৮৭টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। টিসিবি রমজানে ২ হাজার ৮২৭ জন ডিলারের মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য-সামগ্রী বিক্রি করবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারের মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

শহীদুজ্জামান সররকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বছরব্যাপী অভিযান চলে। যেখানেই ভেজাল দেখা যায়, সেখাই অভিযান চালানো হয়। ফলে একদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, পাশাপাশি ভেজালের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং সেটা অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই রমজান মাসে মোবাইল কোর্ট বসাবো আরও বেশি করে। তারা সবসময় ভেজালের বিষয়টা দেখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি, তখন আমাদের মূল্যস্ফীতি ছিল দুই অঙ্কের ঘরে। আমরা দক্ষতার সঙ্গে সেটা নামিয়ে এনেছি। বর্তমানে আমাদের মূল্যস্ফীতি সাড়ে পাঁচ ভাগ। কাজেই আমরা সবসময় দ্রব্যমূল্য মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানুষের খাদ্যদ্রব্য যাতে মানসম্মত হয়, স্বাস্থ্যসম্মত হয়, এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেষ্ট।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে, অব্যাহত থাকবে এবং রমজানে সেটা আরও বৃদ্ধি করে দেবো। যারা এ ধরনের ব্যবসা করেন বা ভেজাল দেন তাদের বলবো, ভেজাল দেওয়ার দরকারটা কী? এইভাবে মানুষের ক্ষতি করা, এটা তো ঠিক না।’ মানুষ ভেজালের পথ থেকে সরে আসবে বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

/ইএইচএস/এএইচ/

লাইভ

টপ