ঢাকা-লন্ডন সম্পর্কের লক্ষ্য ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০২:২১, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৫, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ঢাকা ও লন্ডন কৌশলগত অংশীদারিত্ব (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশীপ) সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য তৃতীয় কৌশলগত সংলাপের পরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এক লেকচারে তিনি এ কথা বলেন।

লেকচারে সাইমন বলেন, ‘আমার মনে হয় স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ একটি ভালো ভিত্তি এবং আজকে আমরা যে বিষয়গুলিতে একমত হয়েছি সেগুলোর অর্ধেকও যদি অর্জিত হয় তবে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারবো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্কের পর্যায়ে পৌছেছে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই বছর পরে আমি আবার ঢাকা আসবো এবং তখন আমি ঢাকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্ক একসঙ্গে উদযাপন করতে চাই।’

উল্লেখ্য, শুধু ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্ক আছে।

সাইমন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এদেশে আমাদের আগ্রহ অর্থনৈতিক এবং ঐতিহাসিক কারণে।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব জানান, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে এবং এর অর্থ হচ্ছে যুক্তরাজ্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলির দিকে বেশি মনোযোগী হবে না এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রতি মনোযোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্তমান যে সুবিধাগুলো বাংলাদেশ ভোগ করে তা যেনও বজায় থাকে এবং আমাদের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য যেন অবাধে প্রবেশ করতে পারে।’

যুক্তরাজ্যে ৬ লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাস করেন জানিয়ে সাইমন বলেন, ‘আমরা উভয় দেশ একে অপরের বিষয়ে ওয়াকিবহাল।’

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড

কৌশলগত সংলাপ

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য তৃতীয় কৌশলগত সংলাপে স্যার সাইমন ২১ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ওই দলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ডিফিডসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করে সম্মান জানানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম. শহীদুল হক এবং সাইমন পাচঁটি প্রধান বিষয়ের অধীনে ১৭টি বিষয় আলোচনা করেন। প্রধান পাচঁটি বিষয় হলো রাজনৈতিক, অর্থনেতিক, আঞ্চলিক, বৈশ্বিক এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা।

বৈঠকের পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন ও মানবাধিকার, রোহিঙ্গা, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শুরুতে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র, অর্থনেতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সুশাসন, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয় পক্ষ।

দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায় যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়ে কাজ করার লন্ডনকে ধন্যবাদ জানায় ঢাকা।মিয়ানমার যে অপরাধ সংঘটিত করেছে তার দায়বদ্ধতা ও এর সমাধানের জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

ভিসা বিষয়ে সাইমন বলেন, বাংলাদেশিরা এখন অনেক বেশি ভিসা পাচ্ছেন এবং ২০১৮ সালে ৭০ শতাংশ আবেদনকারী ভিসা পেয়েছেন, যা আগের বছর ছিল ৬১ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানায় লন্ডন।

শিক্ষা বিষয়ে ঢাকা প্রস্তাব করেছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি দেওয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যে কারি শিল্পে বাবুর্চির অভাব আছে এবং এ বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে বাংলাদেশ।

এ বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে লন্ডনে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো’ আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে অভিহিত করে বাংলাদেশ এবং এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে লন্ডন।

/এসএসজেড/টিএন/আপ-এএ/

লাইভ

টপ