১০০ দিনের কর্মসূচি শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪০, মে ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৪, মে ১৬, ২০১৯




জাহিদ-মালেকগত ৭ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহারের আলোকে ১৬ জানুয়ারি ঘোষিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১০০ দিনের কর্মসূচি পুরোটা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি আমরা পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদ মালেক বলেন, ১০০ দিনের জন্য ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালের সেবার মূল্যতালিকা টাঙানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। সেখানে যে কেউ অভিযোগ বা পরামর্শ দিতে পারবেন। সেই পরামর্শ বা মতামত গ্রহণ করে সেবার মান বাড়ানো হয়। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোগীদের সুবিধার জন্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালকে

মনিটরিংয়ের আওতায় প্রতিটি হাসপাতাল
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি হাসপাতালকে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার ১০০ ভাগে চলে আসবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার বেড়ে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে এ কর্মসূচি শতভাগ বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ২ হাজার ৬০০ বেডের সক্ষমতা থাকলেও ৪ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।


জাহিদ মালেক আরও বলেন, এরই মধ্যে সাড়ে ৩০০ চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগে কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অনুমোদন পেয়েছি। আগামী বছরও বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১০০ দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের ৮টি বিভাগে একটি করে মোট ৮টি ক্যানসার হাসপাতাল ও একটি করে মোট ৮টি কিডনি হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে পৃথক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শিগগিরই চালু করা হবে। এসবেরই মূল লক্ষ্য, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা।

১৫ জুনের মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্যক্রম আগামী ১৫ জুনের মধ্যে শুরু হবে। তিনি বলেন, বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি শুধু হাসপাতাল নয় এটি একটি ইনস্টিটিউট। এর জন্য যন্ত্রপাতি এরই মধ্যে এসে গেছে। সেগুলো বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৫ জুনের পর থেকে এই হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাহিদ মালেক বলেন, এই আইনটি মন্ত্রিপরিষদে আলোচনার জন্য রয়েছে। আশা করছি, আসছে অধিবেশনে এটি সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে। তবে আগামী অধিবেশনটি বাজেট অধিবেশন। কোনও কারণে এই অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা না সম্ভব বলে পরবর্তী অধিবেশনে অবশ্যই করা হবে।

/এসআই/এইচআই/

লাইভ

টপ