সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে ধীরগতি, সংসদীয় কমিটির উষ্মা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৪, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৭, মে ১৯, ২০১৯





সংসদীয় কমিটির বৈঠকসমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে অগ্রগতি না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রবিবার (১৯ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছি। এ জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করছি। এই এলএনজি সমুদ্রপথেই আসছে। কিন্তু যে বিশাল সমুদ্রসীমা আমরা অর্জন করেছি সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করছি না।’
সমুদ্র থেকে গ্যাস আহরণে ব্লক নির্ধারণ ছাড়া দৃশ্যত অন্য কোনও অগ্রগতি নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে যেরকম কার্যক্রম নেওয়ার কথা সেরকম করা হচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অবশ্য সচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের কার্যক্রম চলছে।’
প্রসঙ্গত, পেট্রোবাংলা বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকাকে ২৬টি ব্লকে ভাগ করেছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর আর ১৫টি পড়েছে গভীর সমুদ্রে। এর মধ্যে মাত্র ৪টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলছে।
এর আগে বঙ্গোপসাগর উপকূলে সাঙ্গু থেকে গ্যাস তোলা হয়েছে। সাঙ্গু ছাড়াও বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কনোকো ফিলিপস ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য জরিপ চালায়। ওই জরিপে ভালো ফল পাওয়ার কথা জানায় কোম্পানিটি। কিন্তু গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কনোকোর দাবি সরকার মেনে না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি চলে যায়।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের মধ্যে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় কমিটি দেশের সব জায়গায় সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘অফশোর’ গ্যাস আহরণে আরও বেশি কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করে।
বৈঠকে সারাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে দেশে স্থাপিত কনডেনসেট প্লান্টগুলোতে পর্যাপ্ত কনডেনসেট সরবরাহ করার সক্ষমতা না থাকলেও মন্ত্রণালয় থেকে যাতে নতুন কনডেনসেট প্লান্ট নির্মাণের অনুমতি দেওয়া না হয় তার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কনডেনসেটের মূল্য যাতে আমদানি করা জ্বালানি তেলের চেয়ে বেশি না হয় এবং কোনোভাবেই কনডেনসেট বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া না হয় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আবু জাহির আলী আজগার, এস এম জগলুল হায়দার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও নার্গিস রহমান বৈঠকে অংশ নেন।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ