এফআর টাওয়ার অনিয়মে জড়িতরা চিহ্নিত, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: গণপূর্তমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৪১, মে ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫০, মে ২২, ২০১৯

রাজধানীর এফআর টাওয়ারের অনিয়মের সঙ্গে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিদর্শক, রেজিস্ট্রারসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এফআর টাওয়ারে অগ্নিদুর্ঘটনা সংক্রান্ত এক তদন্ত প্রতিবেদনে জড়িতদের তথ্য উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (২২ মে) সচিবালয়ে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিদুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। 

মন্ত্রী বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের অবৈধ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের তদন্তের বিষয় ছিল এফআর টাওয়ার নির্মাণে কোনও অনিয়ম বা ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে তা কী ধরনের হয়েছে তা জানা। ভবনের বিভিন্ন স্তরে কী কী অনিয়ম হয়েছে, এ অনিয়মের সঙ্গে মালিকপক্ষ, ডেভেলপার এবং রাজউকের তৎকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছিলেন তাদের সম্পৃক্ততা কীভাবে ছিল তা জানারও চেষ্টা করা হয়েছে। যাদের কারণে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯০ সালে এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত ভবনের অনুমোদন সঙ্গত ছিল। পরে ১৫ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও যথাযথ ছিল। তবে অনুমোদনকালীন বিদ্যমান বিধির আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আবেদনকালীন বিদ্যমান আইনের আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে আইনগত বিষয়ের ব্যত্যয় ঘটেছে। ১৮ তলার ঊর্ধ্বে ভবনের সব তলা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ।’

মন্ত্রী আরও বলেন, এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ একটি প্ল্যানের অনুমোদিত কপি দেখানোর চেষ্টা করেছে। তবে রাজউকের রেকর্ডে কোথাও এর কোনও অস্তিত্ব নেই। রাজউকের কাছে সংরক্ষিত নথিতে মূল প্ল্যানেরও কোনও কপি নেই। রাজউকের কোনও অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগের মাধ্যমে বিল্ডিংয়ের মালিক ও ডেভেলপার বাইরের একটি প্ল্যান তৈরি করতে পারে। পরে অসাধু পন্থায় ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদেরও তদন্তে দায়ী করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্তে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত, রেজিস্ট্রার ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন, যারা ঋণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের নাম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় প্রতিবেদনে এসেছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের অবৈধভাবে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ায় আমরা কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে আমরা আইনকে অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মানুষ যাতে জানতে পারে তদন্তের নামে লুকোচুরি করা হয় না। সত্যকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বা রাজউক চেপে রাখেনি।’

রাজউক থেকে বহুতল ভবনের অনিয়ম চিহ্নিত করার জন্য ২৪টি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব বিল্ডিং পরিদর্শন করবো। প্রাথমিকভাবে বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। বহুতল ভবনের ভেতরে এ পর্যন্ত রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে এমন ভবন পাওয়া গেছে ১১৩৬টি, রাজউক ছাড়া অন্যান্য সংস্থা অনুমোদিত নকশা আছে এমন ভবন রয়েছে ২০৭টি, ভবন মালিকগণ রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন এমন ভবনের সংখ্যা ৪৩১টি এবং সরকারি ভবনের নকশা প্রদর্শন করা হয়নি এমন ভবন ৪৪টি। নির্দিষ্ট সময়ে নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থ ভবনের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যত্যয়কৃত ভবনের অনিয়মকৃত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য আমরা নির্দেশ দেবো। ভেঙে না ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এসএস/টিটি/

লাইভ

টপ