ফুলবাড়িয়ায় যাত্রী কম, ফেরত যাচ্ছে ট্রেনের টিকিট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০০, মে ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৪, মে ২৪, ২০১৯

ফুলবাড়িয়া-কাউন্টারঈদ এলেই ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ হয়ে ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ পথের যাত্রীদের। কিন্তু এবার দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। কাউন্টারে পর্যাপ্ত টিকিট থাকলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গত তিনদিন এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া কাউন্টারে। শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে ফুলবাড়িয়া কাউন্টারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এ বছর থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি ও রাজধানী ৫টি স্থান থেকে টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ কাউন্টার থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এতে ৭টি ট্রেনের বিপরীতে টিকিট বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৫৪৮টি। এ থেকে ৫০ শতাংশ অনলাইনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। বাকি দুই হাজার ২৭৪টি টিকিট এখান থেকে দেওয়া হচ্ছে। কাউন্টারটিতে টিকিট বিক্রির জন্য তিনটি বুথ থাকলেও টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড় দেখা যায়নি। অফিসের ভেতরে তিনটি কম্পিউটারে টিকিট মাস্টাররা বসে আছেন। দীর্ঘক্ষণ পর দুই একজন করে যাত্রী এলে তাদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানো টিকিট-প্রত্যাশীদের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকলেও তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক তওফিকুল আজিম বলেন, ‘বিক্রির প্রথম দিন গত ২২ মে অর্ধেক টিকিট বিক্রি হয়েছে। বাকি অর্ধেক ফেরৎ পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের চিত্রও ছিল একই। প্রায় দুই হাজার ২৭৪টি টিকিটের মধ্যে সেদিন বিক্রি হয়েছে ৮০০ টিকিট।  শুক্রবার (২৪ মে) বিক্রির সংখ্যা একটু বেশি হলেও দুপুর পর্যন্ত ২০ শতাংশ বাকি ছিল।’

এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকেটের জন্য রাজধানীর কমলাপুর, তেজগাঁও, বনানী, বিমানবন্দর ও ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনে বসানো হয়েছে আলাদা কাউন্টার। ফলে প্রতিবারের মতো এবার নেই যাত্রীদের তেমন কোনো দুর্ভোগ। তবে অধিকাংশ যাত্রী নির্ধারিত স্টেশন সম্পর্কে অবহিত না। যে কারণে কমলাপুর রেল স্টেশনে ভিড় করছেন তারা। শেষপর্যন্ত সেখান থেকে ফিরেও আসছেন যাত্রীরা। কারণ এবারের ট্রেনের টিকিট নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট স্টেশন নির্ধারিত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক তওফিকুল আজিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত দুই দিনের তুলনায় আজ বিক্রি একটু ভালো। এখনও ২০ শতাংশ বাকি আছে। যাত্রীর উপস্থিতি কম। যেই আসছে সেই টিকিট পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখান থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী, এগারসিন্দুর গোধূলী, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। এসব টেনে আসন সংখ্যা চার হাজার ৫৪৮টি। আমরা ৫০ শতাংশ বিক্রি করছি।’

ফুলবাড়িয়া-কাউন্টার-১

তওফিকুল আজিম আরও বলেন, ‘গত দুই দিন অনেক টিকিট ফেরৎ গেছে। আজ একটু বিক্রি বেশি। কাল আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টিকিট যেহেতু বিক্রি কম সেহেতু আমরা ধরে নিয়েছি যাত্রীদের চাহিদা কম। তাছাড়া সিলেট অঞ্চলে বিকেলের টিকিটের চাহিদা একটু কম থাকে। সে কারণে সবাই সকালের টিকিটের জন্য আগ্রহী। যে কারণে যাত্রী কম। এখন সকালের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বিকেলের টিকিট নিচ্ছে।’

এবার ঈদ যাত্রায় রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, পঞ্চগড়, চিলাহাটি, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ ও ঈশ্বরদীসহ পুরো পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট মিলবে কমলাপুর স্টেশন থেকে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ট্রেনের টিকিট মিলবে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে। ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট মিলবে তেজগাঁও রেল স্টেশন থেকে। নেত্রকোনাগামী ট্রেনের টিকিট মিলবে বনানী স্টেশন এবং সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব ট্রেনের টিকিট মিলবে ফুলবাড়িয়া রেল স্টেশন থেকে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেজগাঁও রেলস্টেশনেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম। এ স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড় না থাকায় খুব সহজেই এ কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে কমলাপুর স্টেশন ছিল চিরচেনা। এ স্টেশনে টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড়ে তিলপরিমাণ ঠাঁই নেই। ভোর রাতে এসে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালেও দুপুর নাগাদ কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়া যায়নি।

/এসএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ