রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৪৬, জুন ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, জুন ০৯, ২০১৯

 

পি

 

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর উসকানি রয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আলাদাভাবে ভারত, চীন ও জাপানের সঙ্গে কথা বলেছি। এসব দেশ মেনে নেয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু সমস্যা যেটা দেখতে পাচ্ছি, সেটা হলো, যেসব সংস্থা আছে, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা কখনোই চায় না রিফিউজিরা নিজ দেশে ফিরে যাক।’১১ দিনের ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে রবিবার (৯ জুন) বিকেল ৫টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চুক্তি করলাম, তালিকা করলাম। এরপরই তারা আন্দোলন করলো যে, তারা যাবে না। এই আন্দোলনের উসকানিটা তাহলে কারা দিলো?’ তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা সমস্যা হলো, রোহিঙ্গারা মনে করে, তারা সেখানে গেলে তাদের ওপর আবারও অত্যাচার-নির্যাতন হবে।’

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু মিয়ানমার গিয়েছিলেন। তিনি সব এলাকা ঘুরেও দেখে এসেছেন। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো কখনোই চায় না যে, রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। তাদের ধারণা, এই যে বিশাল অঙ্কের টাকা পয়সা আসে, অনেকের চাকরি-বাকরি আছে। রোহিঙ্গারা চলে গেলে তাদের অনেকেরই চাকরি থাকবে না। না হলে কেন এরকম হবে?’তিনি আরও বলেন, ‘যদিও কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের পক্ষে, তবে সেসব দেশও চায় না রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থেকে যাক। আমার সঙ্গে যখন যার কথা হয়েছে, তারা এমনটাই জানিয়েছেন। সমস্যাটা হলো মিয়ানমারকে নিয়ে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর করেন। ১১ দিনের সফর শেষে শনিবার (৮ জুন) সকালে তিনি দেশে ফেরেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ত্রিদেশীয় সফরের শুরুতে গত ২৮ মে জাপানের রাজধানী টোকিও যান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে ২৫০ কোটি ডলারের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ মে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ১৪ তম ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন। সৌদি সফরকালে তিনি মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালনসহ  মদিনায় হজরত মোহাম্মাদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন।

সৌদি আরব সফর শেষে ত্রিদেশীয় সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ দিনের সরকারি সফরে গত ৩ জুন ফিনল্যান্ড পৌঁছেন। ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি গত ৪ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ৫ জুন তার সম্মানে অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ ও ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ