দারুল ইহসানের সনদে আবারও তিন শিক্ষকের এমপিও

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ০৯:৫৯, জুন ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪১, জুন ১০, ২০১৯

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ছোট ভাইয়ের পর এবার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী ঢাকা অঞ্চলের তিন শিক্ষক এবং একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক এমপিও পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের স্থগিতাদেশের পর এদের এমপিও দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে মাউশির ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই তো এমপিও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া শিগগিরই স্থগিতাদেশটি প্রত্যাহার করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের রায়ের পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী প্রায় তিন হাজর শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য এমপিও দিতে আদেশ জারি করা হয় ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত না নেওয়ার কারণে আদেশটি পরদিন ২৯ আগস্ট স্থগিত করা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এ কারণে আগে নিয়োগ পাওয়া এবং পরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া প্রায় তিন হাজার শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থাগারিককে এমপিও দিচ্ছে না মাউশি। শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিকরা অনলাইনে এমপিও আবেদন জানালে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসগুলো তাদের আবেদন বাতিল করে। তবে যেসব শিক্ষক তদবির করতে পারছেন অথবা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও আঞ্চলিক অফিসগুলোকে ম্যানেজ করতে পারছেন, তারা এমপিও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ এক হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।

গত ২৯ আগস্টের ওই স্থাগিতাদেশের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষকদের এমপিও আবেদন বাতিল করলেও ঢাকার আঞ্চলিক অফিস চারজনের এমপিও আবেদন গ্রহণ করেছে। এর ফলে মাউশি গত মে মাস থেকে তিনজন শিক্ষক ও একজন সহকারী গ্রন্থাগারিককে এমপিওভুক্ত করে।

গত মে মাসের তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার এন.এ.এম. পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন, ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল হাসান এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের বি.ইউ.কে ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদ হক শেখ। এছাড়া ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক সাবিনা ইয়াসমিনকেও মে মাস থেকে এমপিও তালিকাভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এরা পুরাতন শিক্ষক, আর সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোড পরিবর্তন করে এমপিও দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী গ্রন্থাগারিককে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ অর্জন সাপেক্ষে এমপিওর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

তবে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, কোড পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে এমপিও দেওয়া বা নতুন করে কোনও শিক্ষককে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ বিদ্যালয় পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। 

প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার হাজি ইমদাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক ছিলাম। জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমাকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। এমপিওভুক্ত করতে আমার বেতন কোড পরিবর্তন করারও প্রয়োজন হবে না। একই কোডে দেওয়া সম্ভব। অথচ অন্যদের বেতন কোড পরিবর্তন করে এমপিও দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির এই দ্বৈতনীতির কারণে আমার মতো অন্য শিক্ষকরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ মে সিলেটের রাজা কেসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে এমপিও দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর মাউশি ওই শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করে। এর আগে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আপন ছোট ভাই কেএম নাসির উদ্দিনকে এমপিও দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর তাকে এমপিওভুক্ত করে মাউশি। এছাড়া শর্তসাপেক্ষে এবং শর্ত ছাড়াই সহকারী গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় সনদের এমপিও বঞ্চিত ফোরামের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছিয়ামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বৈতনীতি পরিহার করে এমপিওবঞ্চিত শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে ১১ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে মানববন্ধনের পর স্মারকলিপি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হবে। প্রয়োজনে বঞ্চিত শিক্ষকরা আন্দোলনও করবেন।’

 আরও পড়ুন:

দারুল ইহসানের সনদে এমপিও পেয়েছেন সিইসি’র ভাই

দারুল ইহসান থেকে পাস করা সেই শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির নির্দেশ

 

/টিটি/

লাইভ

টপ