রুমিনের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩৬, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৫, জুন ১১, ২০১৯

সংসদ অধিবেশন (ফাইল ফটো)তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের একমাত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদে উত্তাপ ছড়ান। সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা একযোগে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে হইচই শুরু করেন। তার বক্তব্যের পুরো সময়েই এমন পরিস্থিতি চলতে থাকে। পরে সরকারি দলের একজন মন্ত্রীর দাবির মুখে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অসংসদীয় অংশটি এক্সপাঞ্জ করেন।

মঙ্গলবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধির নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, বিএনপির হারুনুর রশীদ, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, পীর ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের পঙ্কজ নাথ এবং সবশেষে বিএনপির রুমিন ফারহানা।

স্পিকার অন্য সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ দিলেও রুমিনকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেওয়ার জন্য ফ্লোর দেন। রুমিনকে ফ্লোর দেওয়ার সময় স্পিকার বলেন, আপনি শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে চেয়েছেন, অনুরোধ জানিয়েছেন। আপনি দুই মিনিট বলবেন। দুই মিনিট সময় দেওয়া হলো।
প্রথমবারের মতো সংসদে যোগ দেওয়া রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে আজ আমার প্রথম দিন। যেকোনও রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন- এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।
সংসদকে অনির্বাচিত ও অবৈধ বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা মাইক ছাড়াই চিৎকার চেঁচামেচি করে এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে স্পিকার সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা একটু নীরব থাকেন, আপনারা শুনতে দেন। এ অবস্থায় সরকারি দলের সদস্যদের চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই রুমিন তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।
এ সময় তিনি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি এমন একটি সংসদে আছি, যে সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনও দিন কোনও আসন থেকেই পরাজিত হননি, বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার মেরিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স ও জেন্ডার সবকিছু বিবেচনায় তাৎক্ষণিক তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না।

দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আমাদের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজন নেতার নামে শত শত মামলা। আমাদের মহাসচিব যিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত….. এ পর্যায়ে রুমিনের জন্য বরাদ্দকৃত ২ মিনিট সময় শেষ হওয়ার কারণে মাইক আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে, তিনি বক্তব্য না থামিয়ে মাইক ছাড়াই তা অব্যাহত রাখেন। তিনি মাইক ছাড়াই আরও দুই মিনিটের মতো বক্তব্য দেন। এ সময় স্পিকার রুমিনকে বক্তব্য শেষ করতে এবং সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হতে বলেন। তবে, এতে কাজ না হওয়ায় স্পিকার দিনের অন্য কার্যসূচিতে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্পিকার সংসদীয় কমিটির রিপোর্টের সময় বৃদ্ধিসহ অন্য প্রসঙ্গ শেষ হওয়ার পরপরই রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ফ্লোর নেন।
তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ১৬ কোটি মানুষের প্রতি কটাক্ষ করেছেন, নির্বাচিত একটি সংসদকে অনির্বাচিত এবং অবৈধ বলেছেন। একদিকে তিনি নিজে শপথ নিয়েছেন, অন্যদিকে বলছেন এই সংসদ অবৈধ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। আমি এই অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করার জন্য প্রস্তাব রাখছি।
পরে স্পিকার তা এক্সপাঞ্জের কথা বলেন। বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী সেই শব্দগুলো বাতিল করা হবে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ স্পিকার যদি মনে করেন যে, বিতর্কে এমন সব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যা অবমাননাকর বা অশোভন বা সংসদ-রীতিবিরোধী বা অমর্যাদাকর, তাহলে তিনি নিজ ক্ষমতাবলে ওইসব শব্দ সংসদের কার্যবাহ থেকে বাতিল করতে পারবেন।’

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির আরেক এমপি হারুনুর রশীদ চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের বাংলা অর্থ সঠিকভাবে লেখা হয়নি এমন অভিযোগ তোলেন। ধর্ম যার যার উৎসব সবার- এই কথাটি ইসলামি শরিয়ত পরিপন্থী বলেও তিনি দাবি করেন। একপর্যায়ে হারুনুর রশীদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির দায়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর পদত্যাগও দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময়ও সরকারি দলের সদস্যদের হইচই করতে দেখা যায়। এদিকে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী ও পীর ফজলুর রহমানও চাঁদ দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সমালোচনা করেন।

এদিকে পীর ফজলুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেনাকাটায় দুর্নীতি নিয়ে সংসদে গণপূর্তমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দাবি করেন।

/ইএইচএস/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ