যেসব সুসংবাদ আসছে বাজেটে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:৩৯, জুন ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৩, জুন ১৩, ২০১৯

বাজেট সুসংবাদনতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী। এই বেষ্টনীতে নতুনভাবে আরও ১৩ লাখ মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৪ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭ লাখে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় রয়েছে ১৪ ধরনের জনগোষ্ঠী। এগুলো হচ্ছে, ১) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, ২) বয়স্ক ভাতা, ৩) বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, ৪) অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, ৫) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, ৬) অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রম, ৭) খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ৮) বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ৯) হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ১০) লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা, ১১) চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, ১২) গ্রামীণ দুস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, ১৩) কর্মজীবী মায়েদের সহায়তা তহবিল ও ১৪. ভিজিডি কার্যক্রম।

আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী মাসিক ভাতার পরিমাণ ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা এই ভাতা পাচ্ছেন। একইসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা হিসেবে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) ১০ হাজার টাকা, নববর্ষ ভাতা হিসেবে ১ বৈশাখে ২ হাজার টাকা এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, যা আগামী বাজেটেও অপরিবর্তিত থাকবে।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বর্তমানে ৪০ লাখ মানুষ প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। ভাতাভোগীর সংখ্যা চার লাখ বাড়িয়ে ৪৪ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বাজেটে এ খাতে ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার ভাতার পরিধি ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যাও ১৪ লাখ থেকে ৩ লাখ বাড়িয়ে ১৭ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১৪ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে এই ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ বরাদ্দ ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। ভাতার হার প্রতিমাসে ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৭০০ টাকা হারে এ ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৯০ হাজার উপকারভোগী বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী বিভিন্ন হারে এ ভাতা পাচ্ছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৯০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমের আওতায় এ কার্যক্রমে তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫১ উপকারভোগী দৈনিক ২০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ও সুবিধাভোগী একই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আগামী বাজেটে এ কার্যক্রমে তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল পাচ্ছেন (বছরে ৫ মাস)। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ও সুবিধাভোগী একই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আগামী ২০১৯-২০ সালে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা রাখা হচ্ছে। এবার এ খাত থেকে বেদে জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে ১০ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ খাতের আওতায় ৭১ হাজার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আসা হচ্ছে। বর্তমানে ৬১ হাজার ৫০০ উপকারভোগীকে বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন হারে এ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা।

নতুন বাজেটে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬৪৭ উপকারভোগীকে বিভিন্নভাবে ভাতা দিচ্ছে সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সরকার দেশের লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে সহায়তাভোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ করে ৩০ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এই খাতে একজন উপকারভোগীকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে দেশের চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এর উপকারভোগী ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। সহায়তাভোগীর সংখ্যাও বাড়িয়ে ৪০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৪০ হাজার উপকারভোগী জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে গ্রামীণ দুস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৭৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৭ লাখ উপকারভোগী তিন বছর মেয়াদে প্রতিমাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৭২ কোটি টাকা।

এবার প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমজীবী মায়েদের সহায়তা তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ২৫ হাজার শ্রমজীবী মা বাড়ছে। ২০১৯-২০ নতুন অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২৬৪ কোটি টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজারে উন্নীত করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৫০ হাজার উপকারভোগী তিন বছর মেয়াদে প্রতিমাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা আছে ২৪০ কোটি টাকা।

ভিজিডি কার্যক্রম তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে নতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগী প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭০ হাজার টাকা।

 

 

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ