নতুন অর্থমন্ত্রীর বাজেটের নতুন পাঁচ দিক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪৫, জুন ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৩, জুন ১৩, ২০১৯

বাজেটেন নতুন ৫ দিকনতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেটের পাঁচটি নতুন দিক রয়েছে। এগুলো হলো—(১) দীর্ঘদিন পর ভ্যাট আইন কার্যকরের উদ্যাগ, (২)  গবাদি পশু ও ঝুঁকি মোকাবিলায় শস্যবীমা (৩) তরুণ সমাজের জন্য ‘তরুণদের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ (৪) আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী গ্রামকে শহরে পরিণত করার উদ্যোগ ও (৫) সরকারের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার দিক তুলে ধরা।  বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের এই বাজেট পেশ করেন। 

অর্থমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের বাইরে রাখতে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএমই) খাতকে উৎসাহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভ্যাট আইন

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের একনম্বর নতুন দিক হলো—মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের হার ছয় স্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো ২, ২.৪, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সম্পর্কে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংগ্রহ করা রাজস্বের মধ্যে মূসকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সরকারের নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি, করদাতা ও ভোক্তাদের কর দিতে ইতিবাচক মনোভাব এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় এ খাতে রাজস্ব বেড়েছে।

এতে বলা হয়, ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে করভার কমাতে জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার আগের মতোই ২ দশমিক ৪ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গবাদি পশু ও ঝুঁকি মোকাবিলায় শস্যবীমা

এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রীর দ্বিতীয় নতুন দিক হচ্ছে, গবাদি পশু ও ঝুঁকি মোকাবিলায় শস্যবীমা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে দরিদ্র নারীদের ক্ষুদ্র বীমার আওতায় আনার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করার ও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তরুণদের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি

বাজেটের তৃতীয় নতুন দিক হচ্ছে, এবারই প্রথম দেশের তরুণ সমাজের জন্য আলাদা করে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  ‘তরুণদের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ শীর্ষক বাংলাদেশের সামনে জনভিত্তিক লভ্যাংশের যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুব সমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনমুখী শক্তিতে পরিণত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১১১টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ে ৪৯৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবছে সরকার।

আমার গ্রাম আমার শহর

বাজেটের চতুর্থ নতুন দিক হলো—আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী গ্রামকে শহরে পরিণত করার যে উদ্যোগর কথা বলা হয়েছে এবারের বাজেটে এটি অর্থমন্ত্রীর নতুন দিক। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ নামে সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। গ্রামের সব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র, সেবাকেন্দ্র ও ওয়ার্কশপ স্থাপন করে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এবারের বাজেটে এ কর্মসূচি একটি নতুন দিক। একই সঙ্গে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের এক লাখ এক হাজার ৪২টি গ্রামীণ সংগঠনের আওতায় ৬০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সুসংগঠিত করে দেশ থেকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য দূর করার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের আওতায় ৯৫ হাজার সমিতি গঠিত হয়েছে। এর উপকারভোগীর সংখ্যা দুই কোটি ১২ লাখ ৩৩ হাজার জন।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা

বাজেটর পঞ্চম দিক হলো—এবারের বাজেটের আরেকটি নতুন দিক হচ্ছে সরকারের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তাই নিরাপদজলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাত সহিষ্ণু সমৃদ্ধ ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নামে একটি অভিযোজনভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও পানিসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধও এই পরিকল্পনা মূল লক্ষ্য।        

 

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ