বাজেটের লক্ষ্য, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ‘সোনালী যুদ্ধ’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:১০, জুন ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৩, জুন ১৪, ২০১৯

বাজেট বক্তৃতায় সমুদ্র অর্থনীতির বিষয় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ‘সোনালী যুদ্ধ’পরিচালনা করা। সেই যুদ্ধ এখন চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এটি করা সম্ভব হলে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ১৬ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। এর মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য নিয়েই এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী মনে করেন সোনার বাংলা গড়তে সোনালী যুদ্ধ এখন চলমান রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে জন্ম জন্মান্তরে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ স্বপ্নের কথা জানান। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘‘রূপকল্প-২০২১’ এর ধারাবাহিকতা বর্তমান সরকার জাতির সামনে নিয়ে এসেছে। আর একটি নতুন পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প-২০৪১’। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের স্তর পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সুখী ও সমৃদ্ধ উন্নত সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরের নিমিত্তে আমরা সংকল্পবদ্ধ। এভাবেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।’  

এবারের বাজেটের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসৃজন ও মানব সম্পদকে গুরুত্ব না দিয়ে সম্ভব নয় তাই এবারের বাজেটে এসব খাতে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের বাজেট। ২০২০ সালে পালিত হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে ২০২১ সালে। এ কারণেই ২০১৯- ২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটটি হবে সব দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি জাতির এই বড় দুটি অর্জন উপলক্ষে সরকারের নানা পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে এই বাজেটে। 

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী গ্রামকে শহরে রূপান্তরের ঘোষণা রয়েছে এবারের বাজেটে। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। এই দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক নির্মাণ অবকাঠামোর পাশাপাশি ইন্টারনেট সুবিধা প্রসারিত করতে প্রকল্প নিয়েছে সরকার।  একইসঙ্গে নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা ১৪ শ্রেণির জনগোষ্ঠীর পরিধি। এই বেষ্টনীতে নতুন ভাবে আরও ১৩ লাখ মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৪ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭ লাখে। এভাবেই গ্রামের অভাবকে দূর করে শহরের আদলে সাজানো হবে গ্রাম।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোনালী যুদ্ধের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য সব কিছু নির্ভর করছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিশ্চিতকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠান ওপর। এর জন্য দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সের আলোকে দেখছে সরকার। সরকার মনে করে ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’। এই স্লোগানে জিরো টলারেন্স নীতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয় দফতর ২২টি থেকে বাড়িয়ে ৩৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দুদকে গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ থেকে এক প্লাটুন পুলিশ দুদকে সংযুক্ত করা হয়েছে।   

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ