গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকায় সংসদে এসেছি: হারুনুর রশীদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩২, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৫, জুন ১৬, ২০১৯

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদবিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকায় সংসদে এসেছি। বলা হচ্ছে, সংসদকে অবৈধ বলার পরও কেন আমরা এখানে এসেছি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আমরা বলতে চাই- আমরা ছয়জন প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই সংসদ বৈধতা পাবে না। আমাদের সংসদে প্রবেশের কারণ সংবিধানে আমাদের যে গণতান্ত্রিক স্পেস দেওয়া হয়েছে তা অনুপস্থিত। আপনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকঢোল পিটিয়ে সভা-সমাবেশ করবেন আর আমরা করতে গেলেই অনুমতির প্রশ্ন আসবে। মুক্তিযুদ্ধে আমরা যে অর্জনগুলো করেছিলাম তা ধ্বংস হয়ে গেছে।’ রবিবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

রাজনীতিতে জাতীয় ট্র্যাজেডি ১৫ আগস্ট
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় ট্র্যাজেডি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ১৯৮১ সালের ৩০ মে। এই ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে রক্তক্ষরণ তৈরি করা হয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আমরা যখন স্কুলে পড়ি, স্কুলে পোস্টার দেখি বুক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সিঁড়িতে পড়ে আছেন। পাশে চশমা পড়ে আছে। নিঃসন্দেহে এটি নিন্দনীয়। আমি মনে করি না কোনও বোধসম্পন্ন মানুষ এটাকে সমর্থন জানাতে পারে। ওই সময় যারা ক্ষমতায় ছিল তারা ইনডেমনিটি বিল পাস করে। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় থাকাকালে এই ইনডেমনিটি বিল পাস হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসুন না কেন- চতুর্থ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তিনি ক্ষমতায় আসার পর তা থেকে দেশকে মুক্তি দিয়েছিলেন।’

কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না এটা স্বীকার করতে চাই না কেন
বেগম মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘উনি কৃষি ও শ্রমের মজুরি নিয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে কোনও তথ্য ও যুক্তি নেই। ধান লাগানোর যে খরচ, ধান কাটার পর তা পাই না বলেই আমি চার বছর ধরে জমিতে ধান চাষ করি না। কৃষক আজকে তাদের উৎপাদিত ফসলের দাম পাচ্ছেন না। এটা আমরা কেন স্বীকার করতে চাই না। কেন এটাকে এড়িয়ে যাবো।’

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন প্রসঙ্গে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সাবেক কৃষিমন্ত্রী (মতিয়া চৌধুরী) বলেছেন আমরা নাকি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমি অনুরোধ করবো, বাজেটে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এটা দেখাবেন। গত কয়েক বছরে কত লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। কত লাখ টন গম ও ডাল আমদানি করা হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। এই চলতি অর্থবছরে কত লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে তার তথ্য এই সংসদে চাই। কৃষি, পশু পালন ও মৎস্য খাতে আমরা অনেক সফলতা অর্জন করেছি। এতে সরকারের যেমন প্রণোদন আছে তেমনি মানুষেরও প্রচেষ্টা আছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের কারণে উৎপাদন বাড়ছে কিন্তু কৃষককে কি সেই উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য দিতে পারছি? এই বাস্তব সত্য মেনে নিতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের সরে যাওয়া উচিত
সরিকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের কী গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন? এই অযোগ্য ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা দিতে পেরেছে? চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নির্বাচন কমিশন ব্যয় করেছে, এই টাকা অপচয় করেছে। ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। জাতীয় নির্বাচন শুধু নয়, স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের সরে যাওয়া উচিত।’

তোষামোদকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এই সংসদে যারা আপনাকে সামনে রেখে বেশি তোষামোদি করছে তাদের ব্যাপারে আপনি বেশি সতর্ক থাকবেন।’ সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কথা তুলে ধরে সরকারি দলের এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন নারী সংসদ সদস্য কথা বলেছেন আপনারা তা শুনতে দিতে চান না। এতে কী বার্তা যাচ্ছে। বার্তা যাচ্ছে- আপনারা আমাদের কথা বলতে দিতে চান না

হাজার হাজার মানুষ গায়েবি মামলার আসামি
তিনি বলেন, ‘যারা যাবজ্জীবনের আসামি, অত্যন্ত জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আসামি তারাও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে কখনও দেখিনি ওই জামিনের শুনানি হয় তিন মাস পর। দেশের নিম্ন আদালত বলেন, উচ্চ আদালত বলেন, কোনটিই স্বাধীন নয়। দেশের হাজার হাজার মানুষ গায়েবি মামলার আসামি। আমি ২০টি মামলার আসামি।’
হারুনুর রশীদ এমপি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এটি বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিফাইনারি ওয়াশিং কমিশন। এখানে আপনাদের নিয়ে ধোয়ামোছা করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিশুদ্ধ হয়ে গেছে। সরকারি দলের কোনও নেতা, এমপি বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গেলে ধোয়ামোছা করে বের করে দেওয়া হয়। আমাকে সময় দিলে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরবো- গত ১০ বছরে ব্যাংক থেকে কত টাকা লুটপাট হয়েছে, বিদেশে পাচার হয়েছে। দুর্নীতি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে তা তুলে ধরবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে প্রবেশ করেছি। আশা করবো বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সংসদ নেতা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সুবাতাস নিয়ে আসবেন।’
এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়। সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফারুক খান, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ, বিএনপির হারুনুর রশীদ, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, রুস্তম আলী ফরাজী ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন।


আরও পড়ুন: রুমিনের বক্তব্যে ফের সংসদে উত্তাপ

 

/ইএইচএস/ওআর/

লাইভ

টপ