বিমান টার্গেট করে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ শাস্তিযোগ্য অপরাধ: বেবিচক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৭, জুন ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৯, জুন ১৭, ২০১৯

লেজার-রশ্মিউড়োজাহাজকে টার্গেট করে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ শাস্তিযোগ্য ও দণ্ডণীয় অপরাধ বলে মনে করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। একইসঙ্গে উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিশ্চিত করার স্বার্থে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৭ জুন)  সংস্থাটির গণসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এরআগে, গত ১০ জুন বাংলা ট্রিবিউনে ‘পাইলটের চোখে ফেলা হচ্ছে লেজার রশ্মি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে রাতে বিমান নিয়ে ওঠা-নামার সময় লেজার রশ্মিতে বিপত্তিতে পড়ছেন পাইলটরা। লেজারের তীব্র রশ্মিতে মুহূর্তের জন্য চোখে ঝাপসা দেখেন তারা। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ছেন পাইলটরা। বিমানবন্দর দু’টির আশপাশের এলাকা থেকে এই লেজার রশ্মি ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বেবিচকে  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান হতে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে উড্ডয়নরত এবং অবতরণকারী উড়োজাহাজকে টার্গেট করে শক্তিশালী লেজার লাইটের রশ্মি নিক্ষেপ করা হচ্ছে।  এই সব লেজার লাইট ককপিটে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে পাইলটের পক্ষে উড়োজাহাজ যথাযথ নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে, যা কিনা নিরাপদ উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭-এর ধারা-২৬ অনুসারে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত শাস্তিযোগ্য এবং দণ্ডণীয় অপরাধ।

এদিকে, পাইলটরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন,  গত কয়েক মাস ধরে সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের রানওয়ের অ্যাপ্রোচ এলাকায় লেজার রশ্মির উৎপাতের শিকার হচ্ছেন তারা। বিমানবন্দরের ৪-৬ মাইল এলাকার মধ্যে একাধিক স্থান থেকে এই লেজার রশ্মি ফেলা হচ্ছে। বিমান নিয়ে ওঠা-নামার সময় পাইলটদের রানওয়েসহ অ্যাপ্রোচ এলাকায় নজর রাখতে হয়। লেজারের তীব্র রশ্মি ককপিটের কাচে প্রতিফলিত হওয়ায় দেখতে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই তীব্র রশ্মি পাইলটদের চোখে প্রদাহসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। তারা এ সমস্যার কথা প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করছেন।

এরআগে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনস) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মোহাম্মদ জিয়াউল কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘লেজার রশ্মির তথ্য আমরা পেয়েছি। কোন জায়গা থেকে এটি করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ একইসঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্যও কাজ করা হবে বলেও তিনি জানান।

/সিএ/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ