বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন সুপেয় পানি পায় না: রিপোর্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০০, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৮, জুন ১৮, ২০১৯

সুপেয় পানির সংকট (ফাইল ছবি)

বিশ্বে কয়েকশ’ কোটি মানুষ সুপেয় পানি পায় না। জাতিসংঘের শিশু সহায়তা তহবিল ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগ্রাম রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন সুপেয় পানি পায় না।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) ইউনিসেফ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষ সুপেয় পানি পায় না, ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই এবং ৩ বিলিয়ন মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা নেই।

এতে আরও বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রাথমিক ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু তাতেও প্রাপ্যতা, প্রবেশযোগ্যতা ও মান নিয়ে অসামঞ্জস্যতা আছে। জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত পানি পানকারীসহ প্রতি ১০ জনে একজন প্রাথমিক সেবার অভাববোধ করে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী প্রতি ১০ জনে ৮ জন সুপেয় পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত থাকে; যেখানে সামর্থ্যবানদের দ্বিগুণ সেবা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মানুষ প্রাথমিকভাবে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে হয় না। এ ছাড়া, রিপোর্টে উল্লেখ, ৩ বিলিয়ন মানুষ সঠিকভাবে হাত ধোয়ার জন্য সাবান কিংবা পানির ব্যবস্থা রাখে না। স্বল্প উন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের হাত ধোয়ার প্রাথমিক ব্যবস্থাটুকুও থাকে না। সঠিকভাবে হাত না ধোয়ার কারণে প্রতিবছর ৫ বছরের নিচে ২ লাখ ৯৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় ডায়রিয়াজনিত রোগে। নিম্নমানের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দূষিত পানি এই ধরনের রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে।

ইউনিসেফের পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ক সহযোগী পরিচালক কেল অ্যান নেইলর বলেন, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা যথেষ্ট নয়। যদি পানি পরিষ্কার না হয়, পানের অযোগ্য হয়ে থাকে, টয়লেট অনিরাপদ হয়, তার মানে আমরা শিশুদের কিছুই দিচ্ছি না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব শিশু ও তাদের পরিবার সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয় বেশি। আমরা যদি তাদের অর্থনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে যুক্ত করতে চাই ও যথাযথ মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে সরকারকে এসব কমিউনিটিতে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।

আইএলও-র জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পরিচালক ডা. মারিয়া নিরা বলেন, দেশগুলোকে তাদের সামর্থ্য দ্বিগুণ করতে হবে, নতুবা ২০৩০ সালের মধ্যে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হবে না। যদি কোনও দেশ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, আমাদের প্রাগৈতিহাসিক যুগের মতোই রোগ-বালাই নিয়ে বসবাস করতে হবে।

/এসও/এমএ/

লাইভ

টপ