প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:২৬, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, জুন ১৮, ২০১৯

জাতীয় সংসদ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনার শুরুর দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১০ জন এবং বিএনপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

১৩ জুন সংসদে বাজেট পেশের পর গত রবি ও সোমবার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনা ও সম্পূরক বাজেট পাস হয়। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হলো প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা।  দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন এ বাজেট পাস হবে এবং ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের আলী আশরাফ বলেন, খেলাপিঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে। এই সংস্থাটির কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকে ঋণ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হচ্ছেন। তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রশাসন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। নানাভাবে শোনা যায়, টাকা পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েও অনেকের প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যাংকের কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। সতর্ক থাকতে হবে, এটা জনগণের টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে। বস্তুনিষ্ট বাস্তবভিত্তিক প্রচেষ্টা নিতে হবে।

আলী আশরাফ বলেন, বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এবছর প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ ভাগ। অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রবৃদ্ধির এ হার অর্জন করা যাবে। দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত স্থিতিশীল। এবার যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা বড় বাজেট নয়। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যথাযথ বাজেট। তিনি রাজস্ব আয় বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত আয়কর কার্যালয় চালুর প্রস্তাব দেন।

সরকারি দলের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, বিএনপির একজন স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে এক ব্যক্তির নাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় এ ধরনের কোনও দাবি কেউ করেছেন তার কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারলে আমি সংসদ থেকে পদত্যাগ করবো।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস কীভাবে ছিলেন, তার ব্যাখ্যা এখনও দেননি। যেসব মা-বোন মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন, তাঁদের বীরাঙ্গনা বলা হয়। খালেদা জিয়াকে কী নামে ডাকবেন তা মানুষ বুঝতে পারছে না।

সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, তারা দেশ ও জনগণের শত্রু। যারা আওয়ামী লীগকে সহ্য করতে পারেন না, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে পছন্দ করেন না, তারাই বাজেট নিয়ে সমালোচনা করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির লুৎফুন্নেসা খান সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে প্রত্যক্ষ নির্বাচন, নারীর গৃহস্থালী কাজের স্বীকৃতি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার এবং মাদক নিরাময়কেন্দ্রে কর রেয়াত দেওয়ার দাবি জানান।

সরকারি দলের সদস্য হাবিবে মিল্লাত বলেন, অনেকে টকশোতে গিয়ে বাজেটের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কেউ বলতে পারেন না, ঠিক কোনও জায়গায় সমস্যা। যারা বাজেটের সমালোচনা করেন, তারা আগামী বছর থেকে বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করবেন বলে তিনি আশা করেন।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি নিয়ে আমরা অস্বস্তিতে আছি, এলাকায় যেতে পারি না, বিব্রত হই। একবার বলা হয়, আমাদের তালিকা দেওয়ার জন্য। আবার বলা হয়, সংসদ সদস্যদের তালিকা চলবে না। তিনি এমপিওভুক্তির জন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের সাইফুজ্জামান, বিএনপির মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের আরমা দত্ত, খালেদা খানম, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, শেখ অ্যানি রহমান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

/ইএইচএস/এমএ/

লাইভ

টপ