রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ ১১ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:১৩, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৮, জুন ১৮, ২০১৯

একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদামে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনায় এসব গুদাম ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নিতে সরকার যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়নে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির  (একনেক) সভায় এটিসহ মোট ১১টি প্রকল্পের  অনুমোদন দেওয়া হয়। অপর প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

একনেকে পাস হওয়া ১১টি প্রকল্পের জন্য  প্রায় ৮ হাজার ৫৩ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার বরাদ্দসহ সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন  হবে প্রায় ৫৫১ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রকল্প ঋণ বাবদ নেওয়া হবে ৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। 

অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘নেত্রকোণা-কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী-ঈশ্বরগঞ্জ জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়ন’প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন (১ম সংশোধনী)’ প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ইনভেস্টমেন্ট কম্পোনেন্ট ফর ভেলুয়েবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ( ২য় পর্যায়)’ প্রকল্প।  কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন’ প্রকল্প। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি  প্রকল্প যথাক্রমে ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ এবং ‘প্রাণিসম্পদ উৎপাদন উপকরণ ও প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’  এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ’ এবং ‘বিসিক শিল্প পার্ক, টাঙ্গাইল (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প নামের দুটি প্রকল্প।

রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্প নির্মাণে সরকারের বরাদ্দ ৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত। এটি সরকারের নতুন প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই রয়েছে আলোচনায়। এ কারণে ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়ন’প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সরকারের এই নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়াও ‘নেত্রকোনা-কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী-ঈশ্বরগঞ্জ জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি সরকারের নতুন প্রকল্প।

‘বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প  ২০১৯ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায়  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সরকারের এই নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

 ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’প্রকল্পের মেয়াদকাল শেষ হবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

‘ইনভেস্টমেন্ট কম্পোনেন্ট ফর ভেলুয়েবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ( ২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। ‘ইনভেস্টমেন্ট কম্পোনেন্ট ফর ভালনারএ্যাবেল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও  মহিলা বিষয়ক অধিদফতর সরকারের এই নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

‘কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন’প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি সরকারের নতুন প্রকল্প।

‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।  সরকারের এটি নতুন প্রকল্প। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

‘প্রাণিসম্পদ উৎপাদন উপকরণ ও প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন’ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।   প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এই প্রকল্পের ১ম সংশোধিত অংশটুকু বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পে খরচ হবে ১০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

‘খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অংশ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯১৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

‘বিসিক শিল্প পার্ক, টাঙ্গাইল’ প্রকল্পের মেয়াদ ঠিক করা হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, এ অর্থ বছরের ৩১ মে পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৬২ দশমিক ৮১ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে  ৯৮ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯ সালের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ ভাগ যা গতবছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ ভাগ।

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ