‘দেশে যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে, মমতাজউদদীনরা বেঁচে থাকবেন’

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪৯, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৮, জুন ১৮, ২০১৯

মমতাজউদদীন আহমদ স্মরণে নাগরিক সভায় বক্তারা (ছবি– সাজ্জাদ হোসেন)

বাংলাদেশে যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বেঁচে থাকবে, ততদিন মমতাজউদদীন আহমদের মতো মানুষেরা বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল৷ মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়নে প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ স্মরণে এক নাগরিক সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন৷ যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট৷

মেজবাহ কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ যে মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সেটি তৈরি করেছেন এদেশের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী সমাজের মানুষেরা৷ সে মূল্যবোধকে লালন-পালন করতে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অন্যতম হচ্ছেন মমতাজউদদীন আহমদ৷ আসলে আমরা যে অসাম্প্রদায়িক জাতির কথা বলি, আমরা যে বাঙালি সংস্কৃতির উপর দাঁড়িয়ে গোটা জাতিটাকে গড়তে চাই, যে মননশীল সমাজ গড়তে চাই, এর ভিত্তিটা গড়ার ক্ষেত্রে মমতাজউদদীন আহমদদের বিশেষ অবদান আছে৷ এটি আমাদের মনে রাখতে হবে৷ তার প্রতিটা শিল্পকর্মের মধ্যে এবং তার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে এর পরিচয়টা ছিল।’

বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘মমতাজউদদীন আহমদের সব লেখা নিয়ে একটি রচনাসমগ্র প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বাংলা একাডেমি৷ কারণ তাদের বেঁচে থাকাটা আমাদের নতুন প্রজম্মের জন্য খুব দরকার৷ বাংলাদেশ আজকে ক্রসরোডের উপর দাঁড়িয়ে আছে৷ আমি কিন্তু মনে করি না যে, বাংলাদেশের আবার পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার বিপদ কেটে গেছে৷ মনে করতে পারলে খুশি হতাম৷ কিন্তু এখনো নাগিনীর আস্ফালন দেখি, কাজেই সংগ্রামটা চলছে৷ আসলে আমি মনে করি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি৷ এটি (মুক্তিযুদ্ধ) চলমান সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের সূর্যসন্তানদের আমাদের প্রয়োজনে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

শিক্ষাবিদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই মানুষটির (মমতাজউদদীন আহমদ) একটি বৈশিষ্ট্য হলো দারুণ রসবোধ৷ তিনি নিজেই কেবল হাসতেন না, অন্যদের হাসাতেনও৷ রসবোধ হলো একজন মানুষের জীবনীশক্তি৷ যে মানুষ সৃজনশীল, তার মধ্যে রসবোধ থাকবে৷ মমতাজউদদীন আহমদ ছিলেন ঠিক তেমনই৷ তিনি সারাজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

নাট্যজন শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হক বলেন, ‘মমতাজ আহমদ প্রতিবাদী ছিলেন।’ প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘মমতাজ স্যার আমার দিনরাত্রির বিশাল অংশজুড়ে ছিলেন৷ তিনি আমাদের মাঝে আর ফিরে আসবেন না৷ কিন্তু তিনি তার কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকবেন।’

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘আমাদের যখনই মন খারাপ লাগতো, তখন আমরা মমতাজ স্যারের কাছে হাসতে যেতাম৷ কারণ তিনি খুব মজা করে হাসাতে পারতেন৷ সব মিলিয়ে মমতাজ স্যারকে স্মরণ করাটা ভালো সাজে না৷ আমি আশা করি, আমরা সবাই ওনার জীবনী থেকে শিক্ষা নেবো।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘তিনি আপাদমস্তকে একজন বাঙালি এবং স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন৷ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে যে ভাষণ পাঠ করেছেন, তার ইংরেজি বক্তব্যটি তিনি লিখেছেন৷ তিনি বায়ান্ন সালে ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন৷ তার জীবন থেকে যদি আমরা শিক্ষাগ্রহণ করি, তাহলে স্বার্থকতা পাবো৷ আমরা আশা করি, বাংলা একাডেমি তার সব লেখা নিয়ে রচনাসমগ্র প্রকাশ করবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘মমতাজ স্যার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী একজন মানুষ৷ এরশাদের সময়ে তিনি এরশাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন। এতেই তার সাহসের প্রমাণ পাওয়া যায়৷ শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন একজন মাটির মানুষ৷ তাঁকে আমরা কোনোদিন ভুলতে পারবো না।’

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান৷ কিন্তু তার বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি৷ তাই স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার৷ এতে আরও বক্তব্য রাখেন– বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন, নাট্যজন মো. আক্তারুজ্জামান, নাট্যব্যক্তিত্ব কেরামত মাওলা, অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, নাট্যজন গোলাম রাব্বানী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, কবি আসাদ মান্নান প্রমুখ৷

/এসআইআর/এমএ/

লাইভ

টপ