কালো টাকা সাদা করার দাবি অযৌক্তিক-অগ্রহণযোগ্য: টিআইবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৯, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪২, জুন ১৯, ২০১৯

টিআইবিকালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বহুজাতিক পরামর্শক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস বাংলাদেশ’-এর দেওয়া যুক্তিকে ভিত্তিহীন-অযাচিত বলে মত দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, কালো টাকাকে সাদা করার পক্ষে প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স যেভাবে ভারতের উদাহরণ টেনে এনেছে, সেই দাবি অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। বুধবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।  

সরকারকে কালো টাকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আশা করি, সরকার কালো টাকার মালিকদের সুরক্ষা বা নতুন সুযোগ দেবে না। দুর্নীতির বিকাশের ঝুঁকিও বাড়াবে না।’  

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘কালো টাকাকে প্রায় অবাধে, নামমাত্র কর দেওয়া সাপেক্ষে বৈধতা দেওয়া ও ২০১৯-২০২০ বাজেটে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোয় বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া অসাংবিধানিক, অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতি সহায়ক। অথচ প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স সম্পূর্ণ অযাচিত, উদ্দেশ্যমূলক ও অনৈতিকভাবে এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্য কোনও দেশে এ ধরনের অনিয়মের চর্চা হয়ে থাকলে তা এদেশেও অনুকরণের প্রস্তাবের পেছনে কোনও নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘ভারতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। আর তাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসি ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, কালো টাকা ভারতের মোট জিডিপির ৭১ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ ভারত সরকার দুই দশকেরও বেশি সময় আগে দিয়েছিল, তা কার্যত কোনও সুফলই দিতে পারেনি। বরং বিগত বছরগুলোয় কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে ব্ল্যাক মানি ল’ এবং ফিউজিটিভ ক্রিমিনাল অফেন্ডার্স অ্যাক্টের মতো কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং মুদ্রা রহিতকরণের মতো পদক্ষেপের পর এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি রুপি অপ্রদর্শিত অর্থ করের আওতায় এসেছে আর জব্দ করা হয়েছে পঞ্চাশ হাজার কোটি রুপির সম্পদ।’

বিশ্বব্যাপী প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের কর্মকাণ্ডের যে খতিয়ান পাওয়া যায়, তাতে তাদের কাছ থেকে এমন পর্যবেক্ষণ অপ্রত্যাশিত ছিল না বলেই মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের বিরুদ্ধে এমএফ গ্লোবাল তিনশ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে, কারণ তাদের পরামর্শে ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটিকে শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান টেইলর বিন অ্যান্ড হোয়াইটেকারও দেউলিয়া হয়েছে কার্যত প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের ব্যর্থতার কারণে। এছাড়া ব্যাংক অব টোকিও মিতসুবিশির অনুরোধে অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগের পর নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেসকে ২৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়ে রফা করতে বাধ্য হয়েছে প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স। এছাড়া, ব্রিটিশ সুপারমার্কেট চেইন টেসকো ৩০ কোটি ডলার ভুয়া লাভ দেখিয়েছিল তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে, যখন প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স তাদের অডিটরের দায়িত্বে ছিল।’ এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি যে বাংলাদেশে কালো টাকার বিস্তারের পক্ষের শক্তির সমর্থনে যুক্তি দিতে পারে, তা স্বাভাবিক বলেও মনে করেন তিনি।

 

/আরজে/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ