কালো টাকার বৈধকরণ অনৈতিক: ইনু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:০৬, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৭, জুন ২৪, ২০১৯

জাতীয় সংসদ

কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জাসদের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কালো টাকা ব্যবহারের পক্ষে যতই সাফাই থাকুক না কেন এটা অনৈতিক এবং সংবিধানের স্পিরিট বিরোধী। কালো টাকা বৈধকরণ আমি গ্রহণ করি না। এটাকে আমি অনৈতিক মনে করি। কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা উচিত।

সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মহাজোটের শরিক দলের সদস্য ইনু বলেন, কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের নামে বৈধ করার সুযোগ দিয়ে গত দশ বছরে কোনও সুফল আসেনি। অর্থনীতিতে কোনও প্রভাব পড়েনি। ড. কামাল হোসেন ও বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এই সুযোগ কেউ নেননি। আর কারা কারা নিয়েছেন তা জানিও না।  অন্য কারা এই সুযোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী যেন এই সংসদে তার তালিকাটা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কালো টাকার কোনও ভূমিকা ছাড়াই ৮ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। কালো টাকার থেকে সাদা হওয়া টাকা এতবড় সাদা অর্থনীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন করবে। আমি চাই না শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়া সাদা অর্থনীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন হোক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে হবে। আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনতা প্রয়োগ করুক।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখানে মাথা না ঘামানো ভালো। ব্যাংক কমিশন গঠন করার যে প্রস্তাব আছে তা কবে হবে জানি না। এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতে যে বিষ ফোঁড়া  তা সার্জারি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। তাকে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার দেওয়া উচিত।  যতক্ষণ ব্যাংক কমিশন না হচ্ছে ততদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কার করে এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরত আনা দরকার। ব্যাংক আইন সংশোধন করা দরকার। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বড় বড় ঋণ খেলাপিরা আদালতের সুবিধা নিয়ে টাকা আটকে রাখছে। ৩৭ হাজার কোটি টাকা এভাবে আটকে গেছে। এটা উদ্ধার করা দরকার।

ইনু তার বক্তৃতায় এ বছরই উপজেলা পর্যায়ে আয়কর অফিস চালুর দাবি করেন।

তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কী প্রভাব পড়বে তা পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। প্রভাব কী পড়তে সেই বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রয়োগের সময় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক ইতিবাচক বিষয়ের বিপরীতে বাজেটে কিছু নেতিবাচক দিক ও দুর্বলতা রয়েছে। মোবাইল সিমে নতুন শুল্কারোপ,  টক টাইমেরও পর বাড়তি কর চাপানো ও স্মার্ট ফোনে অত্যধিক উচ্চহারে শুল্কারোপ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মোবাইল সেক্টর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ থেকে ১০ শতাংশ করাটা নেতিবাচক হবে। করপোরেট ট্যাক্স অপরিবর্তিত রাখাটাও সঠিক মনে করছি না। অনলাইনে কেনাকাটা ও রাইড শেয়ারিংয়ে নতুন করারোপ দুঃখজনক। এগুলো সংশোধনের প্রস্তাব রাখছি।

বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হতাশজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তির আয়করমুক্ত সীমা আগের মতো আড়াই লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এটা দীর্ঘদিন ধরেই আছে। সম্পদের সারচার্জ সুবিধা সোয়া দুই কোটি টাকা থেকে তিন কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধনীদের সুবিধা দিচ্ছেন আর গরিবদের সুবিধা দেবেন না এটা হয় না। ব্যক্তি আয়করমুক্ত সীমা তিন লাখে নিয়ে যাওয়া এবং সম্পদের সারচার্জ সোয়া দুই টাকায় বহাল রাখা উচিত।

বিএনপিকে দেশ বিরোধী রাজনৈতিক দল আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, অর্থনীতির গতির জন্য রাজনৈতিক শান্তির দরকার। শেখ হাসিনার সরকার অনেক মূল্য দিয়ে সেই শান্তি অর্জন করেছে। তাই শান্তির শত্রু, অশান্তির হোতাদের কোনও ছাড় নেই।  আগুন আর জঙ্গি সন্ত্রাস আর অন্তর্ঘাত দমন, দুর্নীতির বিচার প্রতিহিংসা নয়। তাই এদের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় নয়। রাজনৈতিক স্পেস নেই বলে একটা কথা বলার ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। শান্তির শত্রুদের কোনও রাজনৈতিক স্পেস দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে যারা গণতন্ত্রের ওপর ছোবল মারে তাদের জন্য মায়া কান্নার সুযোগ নেই। জঙ্গি তোষণকারী বিএনপিকে রাজনীতির ময়দান থেকে মাইনাস করতে হবে।

 

/ইএইচএস/টিএন/

লাইভ

টপ