অর্থবছরের শেষ তিন মাস আগে লুটপাট শুরু হয়: মতিন খসরু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:২১, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৩, জুন ২৫, ২০১৯

আব্দুল মতিন খসরু (ফাইল ছবি)বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না অভিযোগ করে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু। তিনি বলেন, ‘বাজেটে আমরা অনেক বেশি বেশি বরাদ্দ করি, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি না। বছর শেষে শোনা যায়, ৭০ শতাংশ ব্যয় করতে পারিনি। ব্যয় দেখাতে অর্থবছরের শেষের তিন মাস আগে লুটপাট শুরু হয়।’

সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মতিন খসরু বলেন, “কোনও কোনও আমলা বলেন, ‘স্যার টাকা তুলে রাখছি।’ আরে ভাই তুলে রাখেন কেন? প্রধানমন্ত্রী তো বছরের প্রথমেই টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। বছরের শেষে তো দিচ্ছেন না। আমরা দেখতে চাই আপনারা বাস্তবায়ন করছেন। বাস্তবায়িত না হলে এই বরাদ্দে কোনও কাজ হবে না। বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকতে হবে।”

মতিন খসরু বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। সংসদের ক্ষমতা আছে সুপারভিশন করার। সংসদীয় কমিটি করেন। এই কমিটিতে এক্সপার্টদের রাখা যেতে পারে। সবাই বাস্তবায়ন দেখতে চান।’

সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাজেটে বেশি বেশি বরাদ্দ করছি। ইটস ভেরি গুড। কিন্তু বাজেট দেওয়ার তিন মাস আগে ৭০ শতাংশ বরাদ্দের টাকা ব্যয় হয় না। আপনি কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন, লাভটা কী? দিস হ্যাজ টু ইমপ্লিমেনটেড।’ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

বিএনপিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় নেই মন্তব্য করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কে কী সমালোচনা করলো সেটা বড় বিষয় নয়। তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কোনও বিষয় নেই। বিএনপি ইজ নো মোর ফ্যাক্টর। দলটি তো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা তাদের অ্যাটাক করছি কেন? নিজেদের কেন অ্যাটাক করছি না? নিজেদের অ্যাটাক মানে হলো—হাউ টু বিল্ড আওয়ার ক্যাপাসিটি? কীভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় শতভাগ বরাদ্দ ব্যয় করতে পারে, সে দিকে দৃষ্টি দেওয়া। কেনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না সেটি চিহ্নিত করতে হবে। এটা নিরসনের পথটা কী? পথ নিশ্চয়ই আছে। এটা আমাদের বের করতে হবে।’

আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘উন্নয়নের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা রক্ষা করতে হলে করের আওতা বাড়াতে হবে। আমরা ১২ লাখ থকে ১৪ লাখ লোক কেবল কর দিতে পারি বিষয়টি তা নয়, এখন অনেক লোক কর দিতে সক্ষম। এটা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়াতে হবে। পৃথিবীর কোনও উন্নত বা সভ্য দেশে আর যাই হোক কর মাপ নেই। আবার দেখা যায়, অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি করের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছেন। এটি সহনীয় মাত্রায় করতে হবে। আওতা বাড়াতে হবে। না হলে উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে, তা আমরা ধরে রাখতে পারবো না।’

আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বাজেটকে সবাই উন্নয়নমুখী ও বাস্তবমুখী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি এর চেয়েও বেশি কিছু। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দর্শন বাস্তবায়নে কী করতে চাই এবং কীভাবে করতে পারি, তাই হলো বাজেট। এ জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের বার্ষিক রফতানি আয়ের বিশাল অংশ প্রবাসী শ্রমিকদের থেকে আসে। এক কোটি বাংলাদেশি বিদেশে আছে। এমন সময় আসতে পারে, শ্রমিকদের ওই সব দেশ থেকে আনস্কিল বলে বের করে দিচ্ছে। এ জন্য এখনই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। কীভাবে শ্রমিকদের দক্ষ করা যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’



 

/ইএইচএস/আইএ/

লাইভ

টপ