অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্যে উদ্বেগ জানিয়ে ৬৬ শিক্ষকের বিবৃতি

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪১, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৭, জুলাই ১৫, ২০১৯

অধ্যাপক আ ব ম ফারুকদুধ নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষক। তারা অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। সোমবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের “সদ্য-সাবেক” পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণা কার্যক্রমকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি এবং অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অধ্যাপক ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক এবং গবেষক। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অনুদানের সাহায্যে অধ্যাপক ফারুক বিভিন্ন কোম্পানির বাজারজাতকৃত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার দাবি করেছেন। জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক এই ঘটনাটি প্রচারে আসামাত্রই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং সরকারি আমলাদের কেউ কেউ অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন এবং চাপ প্রয়োগ করছেন বলে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্নসূত্রে আমরা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যেই ফার্মেসি অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগের চেয়ারম্যান এই গবেষণার দায়ভার থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এই অবস্থায় অধ্যাপক ফারুকের মতো আমরাও বিপন্ন বোধ করছি।’

‘এই পরিস্থিতির মুখেও অধ্যাপক ফারুক দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় আবারও দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন। জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় পরীক্ষার এই ফলটি তিনি প্রকাশ করেছেন। এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে তিনি নৈতিকতাবিরোধী কোনও কাজ তো করেনইনি, বরং তার দায়িত্ব পালন করেছেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, বিএসটিআই দুধের মাননির্ণয়ে ১৭ বছর আগে যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিল তা দুধের মান নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।  দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের মতো কোনও পদ্ধতি বিএসটিআইয়ের নেই। অধ্যাপক ফারুকের এই গবেষণাটি প্রচারে না এলে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই বিষয়টি অজানাই থেকে যেত। এ ধরনের গবেষণাকে উৎসাহিত করা যেখানে কাম্য ছিল, তা না করে উল্টো অধ্যাপক ফারুককেই দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তাকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বলেন, ‘অধ্যাপক ফারুকের গবেষণার ফলাফল নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুধের মান নিয়ে জনমনে সন্দেহের অবসান ঘটাতে পারতো। তা না করে অধ্যাপক ফারুককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে জনপ্রতিনিধি, সরকারি আমলা ও বিভিন্ন কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যে আচরণ করছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিবেশের জন্য এক বিরাট হুমকি। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা গবেষণার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা ও নতুন জ্ঞান সৃজনের ক্ষেত্রটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।’

তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ “স্বায়ত্তশাসিত” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখানে অধ্যাপক ফারুককে কোনও সুরক্ষা ও সমর্থন তো দিচ্ছেই না, বরং নানাভাবে তার ওপর আরও চাপ তৈরি করা হচ্ছে।’

বিবৃতি দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গীতি আরা নাসরীন, সামিনা লুৎফা, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, কাবেরী গায়েন, অর্পিতা শামস মিজান; জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, রায়হান রাইন, স্বাধীন সেন, সাহিদ সুমন; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেহরীন আতাউর খান; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌভিক রেজা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান প্রমুখ।

আরও পড়ুন: অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আজই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে!

 



 

/এসআইআর/এমএএ/

লাইভ

টপ