মশক নিধনে ডিএসসিসির বাজেটে বরাদ্দ কমছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫৪, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১০, জুলাই ১৭, ২০১৯

ডিএসসিসি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০১৯-২০ অর্থবছরের খসড়া বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে ১শ কোটি টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৭০৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এবারের বাজেটে রিকশা লাইসেন্স, জবাই খানা ইজারা ও শিশু পার্ক দর্শনার্থী ফি বাবদ কোনও আয় ধরা হয়নি।

বাজেটের উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম বাবদ ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। যা গত অর্থবছরে ছিল ২৬ কোটি টাকা। এবার এখাতে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। ডিএসসিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খসড়া বাজেটে আয়ের খাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রারম্ভিক স্থিতি ১২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রাজস্ব আয়ের মধ্যে কর বাবদ ৩৪০ কোটি টাকা, বাজার সালামি ৩১০ কোটি টাকা, বাজার ভাড়া ৩৫ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স ৯০ কোটি টাকা, প্রমোদ কর বাবদ ৪০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন কর বাবদ ৭ কোটি টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে ১০ কোটি টাকা, ইজারা (টয়লেট, পার্কিং, কাঁচাবাজার ইত্যাদি) বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, রাস্তা খনন ফি বাবদ ৩০ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি ভাড়া ৮ কোটি টাকা, বিভিন্ন ফরম বিক্রি থেকে ২ কোটি টাকা, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কবরস্থান ও শশ্মানঘাট বাবদ ৫০ লাখ টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর কর বাবদ ১০০ কোটি টাকা, ক্ষতিপূরণ (অকটয়) বাবদ এক কোটি টাকা, পেট্রোল পাম্প বাবদ ৩ কোটি টাকা ও অন্যান্য (ভূমি, নাট্যমঞ্চ, ছিন্নমূল ও নগর ভবন ইত্যাদি) বাবদ ২ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এসব খাত থেকে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৯৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অপরদিকে অন্যান্য আয়ের মধ্যে অপ্রেয়োজনীয় ও অব্যবহার্য সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য বাবদ ৫০ লাখ টাকা, ঋণ গ্রহণ ৩০০ কোটি টাকা, ঋণ আদায় এক কোটি ১৭ লাখ টাকা, স্থায়ী আমানতের সুদ থেকে এক কোটি টাকা, বিলুপ্ত ডিসিসির স্থিতি থেকে ৩ কোটি টাকা। এই খাত থেকে ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি ও বৈদেশিক উৎসের মধ্যে সরকারি মঞ্জুরি থেকে ৪৪ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি থেকে ৩০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প থেকে দুই হাজার ৫৪৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। এই খাতটি থেকে মোট দুই হাজার ৬১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৭০৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

খসড়া বাজেটের উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাবদ ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। যা গত অর্থবছরে ছিল ২৬ কোটি টাকা। এবছর এখাতে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। কর্মচারীদের প্রতিদান (বেতন, ভাতা ও অন্যান্য) বাবদ ৩৫০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ জ্বালানি, পানি ও অন্যান্য বাবদ ৭৪ কোটি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৩৩ কোটি টাকা, সরবরাহ বাবদ ২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ভাড়া, রেটস ও কর বাবদ ৭ কোটি টাকা, কল্যাণমূলক ব্যয় ৪২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ভ্রমণ ও যাতায়াত বাবদ ৫ লাখ টাকা, ডাক,তার ও দূরালাপনী বাবদ ২০ লাখ টাকা, আতিথেয়তা বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফি বাবদ ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সংস্থার চাঁদা বাবদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, বীমা বাবদ এক কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ বাবদ ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, উচ্ছেদ কার্যক্রম বাবদ ২০ লাখ টাকা ও বিবিধ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এসব খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।

ঋণ পরিশোধ ও মামলা সংক্রান্ত ব্যয় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সালামি ফেরত ৫০ লাখ টাকা, গৃহ নির্মাণ ও অন্যান্য অগ্রিম বাবদ ৫০ লাখ টাকা। এসব খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

উন্নয়ন ব্যয়ে নিজস্ব উৎস থেকে ৪৬০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প থেকে দুই হাজার ৫৪৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এসব খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আর সমাপনী স্থিতি থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বাজেরে ৩ হাজার ৭০৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বাজেট আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে।

খসড়া বাজেটের বিষয়ে সংস্থাটির কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। কয়েকজন জানিয়েছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ বাজেট ঘোষণা করবেন।

 

/এসএস/এনআই/

লাইভ

টপ