রিফাত হত্যার গুড অ্যান্ড বেটার তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৯, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৯, জুলাই ১৭, ২০১৯




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালবরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার গুড অ্যান্ড বেটার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও উপসংহার টানা যাবে না।’ বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি এই তথ্য জানান। কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে কমিটির সদস্য ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান রিফাত হত্যার প্রধান সাক্ষী তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘কেউ দোষী হলে তার শাস্তি হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু কারও প্ররোচনায় মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারাদেশে আলোচনায় উঠে আসে। পরদিন নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকেই। সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। পরদিনই শ্বশুরের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে মিন্নি দাবি করেছিলেন, তার শ্বশুর ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় পড়ে এসব বানোয়াট কথা বলছেন।

পরে মঙ্গলবার মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বুধবার আদালত মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের হেফাজত দিয়েছে পুলিশকে।

এরআগে, এ মামলার এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ মোট ১৩ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যা মামলার মূল আসামি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে পীর ফজলুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিন্নিকে হঠাৎ গ্রেফতার করায় বিভিন্ন আলোচনা উঠেছে। আমি বৈঠকে বলেছি, মিন্নিকে কারও প্ররোচনায় গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, সেই আলোচনাও বিভিন্ন মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছি।’

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আলোচনায় উঠেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে উপসংহার টানার সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দোষী যেই হোক তা প্রকাশ করা হবে।’ দোষীদের আইনের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি জানান।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ