যে কারণে এইচএসসির ফলে চমক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩১, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৪, জুলাই ১৭, ২০১৯

ফল প্রকাশের পর ড্রাম বাজিয়ে আনন্দ করছেন ভিকারুন নিসা নূন কলেজের শিক্ষার্থীরাএইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার গত বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। গত বছর সার্বিক পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফল বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, চমকে দেওয়া এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের ভালো ফল। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার ফল। এই শিক্ষা বোর্ডে গতবারের চেয়ে ভালো ফল করেছে শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছরের ফলের সূচকে বেশকিছু ইতিবাচক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। বিজ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার গত বছরের চেয়ে বেশি। জেলা, উপজেলা সদরেও শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এ তথ্যগুলো খুবই ইতিবাচক।’

এক বছরের ব্যবধানে ফলের এমন পরিবর্তনের কারণ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভালো প্রস্তুতি ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। আবার যারা খারাপ পরীক্ষা দিয়েছে, তারা এ দুটিতে পিছিয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র সহজ বা কঠিন করায় পাসের হারে প্রভাব পড়েনি। যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে, তারা ভালো করেছে, আর যাদের প্রস্তুতি দুর্বল ছিল; তারা ভালো ফল পায়নি।’

তবে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের বছর পাসের হার কমার পেছনে যেমন প্রভাব ছিল ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিভাগের খারাপ ফল। এবার তেমনি ভালো ফলের পেছনে কাজ করেছে ওই বিষয়গুলোর পাসের হার বেড়ে যাওয়া।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘ইংরেজি ও আইসিটিতে পাসের হার বৃদ্ধির কারণেই এবার সার্বিক ফল ভালো হয়েছে।’

ভালো ফলের কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘প্রতি বছরই ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেল করার মাত্রাটা বেশি থাকে। এ দুটি বিষয়ে ফেল করার সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে গত বছরও পাসের হার কমে যায়। এ দুটি বিষয়ে পাসের হার বেড়ে যাওয়ায় সব বোর্ডের পাসের হার বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। এবার আগের বছরের তুলনায় ইংরেজিতে প্রায় প্রত্যেক বোর্ডেই এক শতাংশেরও বেশি পাস করেছে। আর আইসিটিতে পাস করেছে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ইংরেজি ও আইসিটিতে বিষয়ে ফেল করার কারণেই দেখা যায় বিভিন্ন সময় সার্বিক ফল খারাপ হয়। এবার যেহেতু দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে, সেহেতু সার্বিক ফলেও তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও তাদের বিষয়গুলোতে আগের বছরের চেয়ে ভালো করেছে।’

এইচএসসিতে এবার পাসের হারে সবার সামনে থাকা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আগে আমাদের শিক্ষার্থীরা খারাপ ফল করেছে, সেসব বিষয়ে আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালাসহ নানা কাজ আমরা করেছি। কি কি কারণে আমাদের খারাপ ফল হয়েছে, তা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই এবার আমাদের পাসের হার বেড়েছে।’

কুমিল্লা বোর্ডের ফলে দেখা গেছে, এবার পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপরই রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর মানবিকে পাসের হার ৭২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। শতভাগ পাস করেছে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একজনও পাস করেনি তিনটি কলেজে।

বিগত সময়ে কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি ও আইসিটিতে ফলাফল বিপর্যয় হলেও এবছর ইংরেজিতে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৩ ও আইসিটিতে ৯৪ দশমিক ২৮শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।

গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯৪৪ জন। আর এ বছর শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০টি, গতবার ছিল ১৪টি।

ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে এবার পাস করেছে ৭৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, আগের বছর ছিল ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজশাহী বোর্ডে ৯৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কুমিল্লা বোর্ডে ৯৬ দশমিক ৪৬, গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। যশোর বোর্ডে ৯৫ দশমিক ২২, গত বছর ছিল ৬৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বরিশালে ৯১ দশমিক ৬১, গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ০৬ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে ৯২ দশমিক ৪৮, গত বছর ছিল ৮২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দিনাজপুর বোর্ডে ৯৫ দশমিক ১৩, গত বছর ছিল ৬৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ঢাকা বোর্ডে আইসিটিতে এবার পাস করেছে ৯০ দশমিক ০২ শতাংশ, আগের বছর ছিল ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একইভাবে তারতম্য লক্ষ্য করা যায় অন্যান্য বোর্ডের ফলেও।

 

/এসএমএ/এনআই/

লাইভ

টপ