রিভার কমিশন করতে চায় ঢাকা

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ১৭:১২, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৮, জুলাই ১৯, ২০১৯

মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়ার নদী (ছবি: ইন্টারনেট)বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দেশ মিলে আন্তঃনদী ব্যবস্থাপনা ও পানিবণ্টনের বিষয়গুলো মীমাংসা করে থাকে। যেমন– দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো মিলে মেকং রিভার কমিশন, আফ্রিকার দেশগুলো মিলে নাইল রিভার কমিশন বা ইউরোপের দেশগুলো মিলে দানিয়ুব রিভার কমিশন গঠন করেছে আন্তঃনদী বিষয়ক জটিলতা নিরসনের জন্য। এর আলোকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে অববাহিকা ভিত্তিক রিভার কমিশন গঠন করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে সরকার।

এ বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের সদস্য কেএম আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘আমরা এই অববাহিকায় যারা সদস্য দেশ আছে তাদের সবাইকে নিয়ে এই কমিশন গঠন করতে চাই।’ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর অববাহিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন। এই সবগুলো দেশকে নিয়ে এই কমিশন গঠন করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। এই দেশটিকে পাশে পেলে ধাপে ধাপে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবো।’

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের কথা আছে। উভয় বৈঠকেই বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে আমি আশা করি।’

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত উন্নয়ন সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক কাঠামো চুক্তি হয়। এর আলোকে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর অববাহিকাভিত্তিক সংগঠন যথা রিভার বেসিন অর্গানাইজেশন/রিভার বেসিন কমিশন গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহযোগিতা ও উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি সই করেন। ওই চুক্তির ২ ধারায় বলা হয়েছে আন্তঃনদীর পানিবণ্টন সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষ নিজেদের লাভের জন্য আন্তঃনদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

গঙ্গার পানিবণ্টন

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানিচুক্তি সই করে, যা ২০২৬ সালে শেষ হবে। নতুন চুক্তির আলোচনা কবে শুরু হবে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় আছে। এটি সামনে শুরু হবে। আমরা তিস্তাচুক্তির পুনরাবৃত্তি চাই না। এজন্য আমরা তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে ধীরগতিতে আলোচনা শুরু করবো।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে।

 

/এসএসজেড/এমএএ/

লাইভ

টপ