চীনের পানি এলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা সংসদীয় কমিটির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৪, জুলাই ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৮, জুলাই ২১, ২০১৯





ভারতের পাশাপাশি চীনের বন্যার পানি বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে বন্যার বিষয়ে সরকারের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে শেষে কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলা বন্যাকবলিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের পানি যখন পুরোদমে আসা শুরু করবে তখন বন্যা ভয়াবহ হতে পারে। সরকার আশঙ্কা করছে এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেইভাবে আগাম প্রস্তুতিও সরকারের আছে। বন্যা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়— সেটা আমরা কামনা করি। তবে হলেও যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। ২৮টি জেলায় বন্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে ত্রাণ কম পাওয়া বা না-পাওয়ার অভিযোগ থাকতেই পারে। হয়তো হতে পারে যেখানে ১০০ টন ত্রাণ সাহায্য দরকার, দেওয়া হয়েছে কয়েক টন। তবে মন্ত্রণালয় এসব মনিটর করছে। তাদের কার্যক্রম ও মনিটর যাতে আরও গতিশীল ও কার্যকরী হয়, সেটা বলা হয়েছে। মানুষ যেন বেশি কষ্টে না পড়ে তা দেখতে বলা হয়েছে। আমরা বলেছি, ত্রাণ যাতে কম না পড়ে বা অপ্রতুল না হয়— সেটা আমরা দেখতে বলেছি।
তাজুল ইসলাম জানান, আগামীকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বন্যা উপদ্রুত এলাকা সফরে যাওয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যেখানে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেবে। সংসদীয় কমিটির সদস্যের মধ্যে আগ্রহী কেউ থাকলে ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিতে পারেন।
বন্যায় ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজে কমিটি খুশি বলেও জানান তিনি।
সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেতু নির্মাণের সুপারিশ
এদিকে বৈঠকে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করার অনুশাসন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটির সভাপতি বলেন, দেখা যায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আর চেয়ারম্যানেরা সিদ্ধান্ত দেন কোথায় ব্রিজ লাগবে আর কোথায় লাগবে না। তারা তো এসব বিষয়ে এক্সপার্ট নন। কোথায় ব্রিজ হলে ইকোলজিক্যাল কী ব্যালান্স হবে— এটা তাদের জানার কথা নয়। আবার কোথাও কালভার্ট করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওই কালভার্টে ওঠার জন্য আরেকটা সেতু দরকার। এজন্য আমরা প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করে এগুলো নির্মাণ করতে বলেছি। কালভার্ট করা হলে তার সুবিধাটা যেন জনগণ পায়। এজন্য রাস্তার দরকার হলে সেটা যেন হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা ভৌগলিকতা বিবেচনা করে করে কালভার্টের সংখ্যা বরাদ্দ না দিয়ে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এটা করতে বলেছি। দেখা যাচ্ছে ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটা ইউনিয়নে ৫টি কালভার্ট বরাদ্দ পাবে। কিন্তু বাস্তবে তা দরকার কিনা, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে।
কাবিখা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় গম। কিন্তু উপজেলা থেকে তারা গমের পরিবর্তে পান চাল। টনপ্রতি চালের দাম যদি ৪০ হাজার করে ধরা হয় বাস্তবে এর দাম ১৮ হাজার বা তার চেয়েও কম। এই প্রকল্পের যে চেয়ারম্যান থাকেন তিনি কীভাবে এটার সমন্বয় করবেন? তাকে তো চুরি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাকে হিসাব মিলাতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে বলেছি।
কাবিটার অসঙ্গতি দূর করার সুপারিশ
৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পের (কাবিটা) অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পে শ্রমিকদের নামে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে যাবে। তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একেকজন শ্রমিকের জন্য যে টাকা বরাদ্দ তাতে শ্রমিক মেলে না। ফলে চেয়ারম্যান শ্রমিকের পরিবর্তে মেশিনে (বেক্যু) কাজ করিয়ে থাকেন। তার বাস্তবে অস্থিত্বহীন শ্রমিকদের নাম ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা তুলে নেন। দিজ আর অল ফলস। শ্রমিকদের দিয়ে কাজ না করে বাস্তবে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এই বাস্তব সমস্যা আমরা কেউ আমলে নিচ্ছি না। এটা এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। কোন প্রক্রিয়ায় গেলে চেয়ারম্যান বিপদে পড়বে না আর সরকারে উদ্দেশ্য হাসিল হবে— সেটা দেখতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে এই সমস্যার সমাধান আমরা মন্ত্রণালয়কে বের করতে বলেছি।
তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন), মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং কাজী কানিজ সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ