শোক দিবস উপলক্ষে নৌ মন্ত্রণালয়ের আলোচনা সভা বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছে অসীম ঋণে আবদ্ধ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৪৬, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৮, আগস্ট ১৯, ২০১৯

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ছবি: ইন্টারনেট থেকে)
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চাইলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু তা না হয়ে তিনি বাঙালিদের স্বাধীনতা চেয়েছেন। বাঙালি এ জন্য অসীম ঋণে আবদ্ধ। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আলোচনায় নৌ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জাতির পিতা সারাবিশ্বের মানবতাবাদী ও শোষিতের পক্ষের নেতা ছিলেন। তার নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ থেকে মিত্র বাহিনীর সেনারাও চলে যায়। ইরাকের হুমকির মুখে সৌদি আরবে মার্কিন সেনা আসে। কিন্তু এখনও সেখান থেকে মার্কিন সেনা যায়নি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেই শেষ করেননি। তার সময়েই ১১৬টি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। চীন ও আরবের কিছু দেশ জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল জিয়াউর রহমান তাদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে তার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, জাতির পিতা ক্ষমতার চেয়ে জনসেবা ও জনগণের পক্ষে আন্দোলনকে ভালোবেসেছেন। একাত্তরে প্রমাণ হয়েছে জাতির পিতা চাইলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছেন।
আনিসুজ্জামান বলেন, জাতির পিতা সংবিধানের ৪ মূলমন্ত্রের মধ্যে সমাজতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। ঠিক ওই সময়েই ঘাতকেরা তাকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা আমাদের মাঝে আছে। তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে অনেক দূর এগিয়ে এনেছেন। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হবে। কারণ, বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছে অসীম ঋণে আবদ্ধ বলে মত দেন তিনি।
মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতার হত্যায় দেশের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল, তাদের সম্পৃক্ততা ছিল।
জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে এই সেক্টর কমান্ডার বলেন, ২৩ মার্চ জিয়াকে অনুরোধ করার পরও ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে তিনি কক্সবাজারের দিকে চলে যান। তিনি আশেপাশে থাকলে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি সৈনিকদের মারতে পারতো না।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন রক্ত দিয়ে হলেও এ দেশের মানুষের ঋণ শোধ করবেন। তিনি আমাদের ঋণ শোধ করেনই নাই শুধু, আমাদের ঋণী করে গেছেন। সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী। বঙ্গবন্ধুর ঋণ আমরা কখনও শোধ করতে পারবো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ