বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠনে সরকার একমত : আইনমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:২৫, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৮, আগস্ট ২০, ২০১৯

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে সরকার নীতিগতভাবে একমত বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘এই কমিশন হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কারণ, এটি অত্যন্ত গুরু দায়িত্ব পালন করবে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা একসঙ্গে বসে কমিশনের কর্মপরিধি নির্ধারণের পাশাপাশি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সোমবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেখানে সরকারি শিশু পরিবারের দেড় শতাধিক শিশুর মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একা এই সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। তবে খুব শিগগিরই আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো। আলোচনার পর সমষ্টিগতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা মিডিয়াকে (সংবাদ মাধ্যম) জানানো হবে।’

তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক সব আসামিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার রায় কার্যকরের চেষ্টা সরকার চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে।’

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়ে বিএনপি আন্তর্জাতিক মহলের শরণাপন্ন হবে বলে জানিয়েছে, এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আসলে বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। তারা মৌখিকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি করে। যখনই তারা ক্ষমতায় গেছে, তখনই তারা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ কাজ করেছে। তারা মুজাহিদ ও নিজামীকে মন্ত্রী বানিয়েছে। শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স করেছে। আজকেও তারা বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলার যে হুমকি দিচ্ছে, সেগুলো তাদের সেই রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা চুরির দায়ে দুটি আদালত দেশের প্রচলিত আইনে সাজা দিয়েছেন। সরকারের এখানে কিছু করার নেই। ২০০৭ সালে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বহুবার হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে হেরে যাওয়ায় বিচারিক আদালতে তার সাজা হয়েছে এবং সেটা আদালতেই শেষ হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সরকার মেনে নেবে এবং সেটা আদালতেই হবে।’

এর আরগে মন্ত্রী শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার এবং তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার ও সমাজসেবা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

 

/বিআই/এনআই/

লাইভ

টপ