শিক্ষকরা ‘খ্যাপ মারায়’ শিক্ষকতার মানের ওপরে প্রভাব ফেলেছে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:০৪, আগস্ট ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৭, আগস্ট ২২, ২০১৯


 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একইসঙ্গে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়াকে ‘খ্যাপের’ সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষকরা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ্যাপ মারায়’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মানে প্রভাব ফেলেছে। তাই খ্যাপ শিক্ষক নির্ভর না হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব শিক্ষক তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত উচ্চ শিক্ষার মান অর্জন বিষয়ে দু’দিনব্যাপী প্রথম সিইটিএল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউল্যাবের প্রধান ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলন চলছে।

কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন কোর্সের জন্য ‘অ্যাডজাঙ্ক ফ্যাকাল্টি’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা নিজেদের কর্মীদের উন্নয়ন করছে না। অ্যাডজাঙ্ক ফ্যাকাল্টিকে আমরা স্থানীয় ভাষায় বলি খ্যাপের টিচার। খ্যাপ খেলতে যান যারা। তারা এক ক্যাম্পাস থেকে আরেক ক্যাম্পাসে যাওয়ার ওপরেই থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম খুঁজলে অনেককেই পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সেই শিক্ষক দুই-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। তারপর সন্ধ্যায় কোনও একটি টেলিভিশন চ্যানেলে যা করার করছেন। এগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার ওপরে একটি প্রভাব ফেলেছে। এখানে অনেকেই আছেন, জিজ্ঞেস করেন তারা আমার সঙ্গে সহমত জ্ঞাপন করবে বলে আমি মনে করি। আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আহ্বান জানাই—এসব খ্যাপ শিক্ষকের ওপর নির্ভর না হয়ে, আপনারা নিজস্ব শিক্ষক তৈরি করুন।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় সবচেয়ে প্রধান সমস্যা হলো মান। এই সমস্যা পাবলিক এবং প্রাইভেট দু’জায়গাতেই আছে। উচ্চ শিক্ষায় আমাদের পরিমাণগত কোনও সমস্যা নেই। যদি আমাদের সেই সমস্যা থাকতো, তাহলে আমাদের এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থাকতো না। বিগত ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় চলমান থাকার পরেও আরও ১০০টির মতো আবেদন জমা পড়ে আছে। আমাদের সময় উচ্চ শিক্ষায় পরিমাণগত সমস্যা ছিল। কারণ, তখন এত বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ইচ্ছা থাকলেও পাঠানো যেতো না। কারণ, যথেষ্ট স্কুল ছিল না। আজকের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন সব জায়গায় স্কুল, হাই স্কুল, কলেজ আছে, এমনকি বসবাসের স্থান থেকে হাঁটা দূরত্বেই স্নাতক সুবিধা সম্বলিত কলেজ আছে। তাই শিক্ষার অধিকার এখন সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো মানসম্পন্ন শিক্ষা।’

‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে’—এমন ধারণা ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো করতে পারে, কিন্তু ঢালাওভাবে সবাই তো করে না।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচএম জহিরুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান রহমান।  অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাজী আনিস আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাজী ইনাম আহমেদ।

আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ৫০ জন শিক্ষক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। তারা তাদের গবেষণা নিবন্ধ সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন।  

/এসও/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ