বজ্রাঘাতে আট জনের মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫৭, আগস্ট ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৮, আগস্ট ২২, ২০১৯

বজ্রাঘাতবজ্রাঘাতে ফরিদপুরে তিন জন, বগুড়ায় দম্পতিসহ তিন জন, মাগুরায় এক কৃষক ও নাসিরনগরে একজনসহ মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিন জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে তার মারা যান। নগরকান্দায় বজ্রাঘাতে মারা গেছেন তালমা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলনালিয়া গ্রামের কৃষক ইমরান বেপারি (২২)। তিনি ওই গ্রামের পাচু বেপারির ছেলে। তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়াবুর রহমান জানান, ইমরান দক্ষিণ-বিলনালিয়া গ্রামের সাইদুল মেম্বারের বাড়ির পাশে নদীর ঘাটে পাট ধোয়ার কাজ করছিলেন। ওই সময় বজ্রাঘাতে তিনি মারা যান। সালথায় বজ্রাঘাতে মারা গেছেন মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী হাসি বেগম (৪৫)। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হাসি বেগম নিজ বাড়িতে রান্না করছিলেন। ওই সময় বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক এসএম ফরহাদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউপি মেম্বার আবুল কালাম জানান, বজ্রাঘাতের মৃত্যুর খবরটি তিনিও শুনেছেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে বজ্রাঘাতে মারা যান সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মাতুব্বর (৪৭)। সৌদি প্রবাসী বিল্লার মাতুব্বর ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মাতুব্বরের ছেলে।

ইউপি সদস্য ইয়াদ আলী বলেন, ‘দুপুরে বিল্লাল তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। ওই সময় বজ্রপাত হলে বিল্লাল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ছেলে সুস্থ রয়েছেন।’
বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সারিয়াকান্দির ডাকাতমারা চরে গরু আনতে ও বাটিয়া চরে পাট পরিষ্কার করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক দম্পতিসহ তিন জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন স্কুলছাত্রীসহ দুই জন। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় পাঁচটি গরুও মারা গেছে। সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতমারা চরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী ফেলানী বেগম (৩২) ও সদর ইউনিয়নের বাটিয়া চরের তোয়াসিন প্রামাণিকের ছেলে সুমন প্রামাণিক (৩২)।

আহতরা হলেন সারিয়াকান্দি সদরের কালিতলা এলাকার তবিবর ফকিরের ছেলে সুমন মিয়া (১৮) ও কুতুবপুর ইউনিয়নের দেবডাঙ্গা গ্রামের মোমিন প্রামাণিকের মেয়ে নিজাম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আকতার (১৫)।

সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার সাজেদুল ইসলাম ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সোহেল রানা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক বজ্রাঘাতে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জন নিহত এবং স্কুলছাত্রীসহ দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর সুমন মিয়াকে ভর্তি ও ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দুপুর ২টার দিকে আমিরুল ও তার স্ত্রী ফেলানী চর থেকে তাদের গরু আনতে যান। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাত হলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের পাঁচটি গরুও মারা যায়। একই সময় বাটিয়া চরের খালে পাট পরিষ্কার করাকালে বজ্রাঘাতে সুমন প্রামাণিকও ঘটনাস্থলে মারা যান। এছাড়া স্কুল থেকে দেবডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ছাত্রী তানিয়া আকতার আহত হন। কালিতলা গ্রোয়েনে চা স্টলে বজ্রপাত হলে দোকানি সুমন মিয়া গুরুতর আহত হন। হতাহতদের উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎকরা তিন জনকে মৃত ও দুই জনকে আহত ঘোষণা করেন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামে বজ্রাঘাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম অলিপ (৩০)। তিনি অরুণ বিশ্বাসের ছেলে।

মাগুরা সদর থানার ওসি জানান, দুপুরে ইঞ্জিনচালিত পাওয়ারটিলার দিয়ে নিজ জমি চাষ করার সময় তিনি বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বজ্রপাতে আব্দুল্লা মিয়া (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাতলপাড় ইউনিয়নের ধানতলীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল ফজলের ছেলে।

নাসিরনগর থানার ওসি কবীর হোসেন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাতলপাড় ইউনিয়নের ধানতলীয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মিয়া মারা যান। চাতলপাড় বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না থাকলে মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

/এনআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ